পাঠ্যপুস্তকে চার নেতার জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সন্তানদের

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২১, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতার অবদান নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে জানাতে পাঠ্যপুস্তকে তাদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সন্তানেরা। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় তাদের হত্যা করার জঘন্যতম ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে স্বাধীন কমিশন গঠনেরও আহ্বান তাদের। আজ জেলহত্যা দিবসের (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে পুরাতন কারাগারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এসব দাবি করেন তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি ও ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর ছেলে রেজাউল করিম।

সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, এ ধরনের নেতাদের হাত ধরে দেশের চেহারা বদলে যায়, রাষ্ট্রের চিন্তাধারা বদলে যায়। এসব তথ্য অনুপ্রেরণার জন্য যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে নাগরিকদের জানানো উচিত। তাদের আড়ালে রেখে কোনোদিন আমরা সোনার বাংলা গড়তে পারবো না।’

তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের একই দাবি, ‘শুধু একটি দিবস নয়, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বইয়ে চার নেতার জীবনী তুলে ধরতে পারলে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে। এটাই আমাদের চাওয়া, আমাদের তো আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমরা চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ। দেশের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে জাতীয় চার নেতা দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতাকে হত্যা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনার বিচার ও খুনিদের শাস্তি চায় আমাদের পরিবার।’
তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ের মন্তব্য, ‘জেলহত্যা এমন নয় যে, গুলি করলো আর চলে গেলো। এর পেছনের কারিগর ও কুশীলব কারা তা জানার জন্য যেন একটা স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়।’

সৈয়দ এম মনসুর আলীর ছেলে রেজাউল করিম বলেন, ‘চার নেতা হত্যাকা-ের ৪০ বছর পর তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন দাবি উঠছে। জেলখানায় তৎকালীন অবৈধ প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের নির্দেশে এই হত্যাকা- সংগঠিত হয়। সেই সময় একটি তদন্ত কমিশন গঠন হয়েছিল, এর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট কেউ জানতে পারেনি এখনও। তৎকালীন জেল কর্তৃপক্ষের কী ভূমিকা ছিল তাও আমরা জানতে চাই।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় বিচারের রায় কার্যকরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পুরাতন কারাগারে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি বলেন, ‘জেলখানা পৃথিবীতে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। সেক্ষেত্রে কীভাবে আইন ভঙ্গ করে এই হত্যাকা- হয়েছে সবাই জানে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার হয়েছে এবং রায় আংশিক কার্যকর হয়েছে। আর পলাতক আসামিদের আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমরা নিজেদের আওতায় আসামিদের পেলে ফাঁসির রায় কার্যকর হবে। জেলহত্যার রায় কার্যকরের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন