পাঠ্যপুস্তকে ভুল, পহেলা বৈশাখের অপপ্রচার ও ভাস্কর্য অপসারণ চলবে না

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা- সোনার দেশ

নগরীতে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকীকরণ, পহেলা বৈশাখের উপর আক্রমণ-অপপ্রচার, ভাস্কর্য অপসারণ, কওমি মাদ্রাসার অনায্য মর্যাদা দানসহ উগ্র ধর্মান্ধ গৌষ্ঠীর কাছে আত্মসর্ম্পণ ও সাম্প্রদায়িক নীতি প্রতিরোধে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় জেলা উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোগে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন। আলোচনার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলাম লেখক প্রশান্ত কুমার সাহা, সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক ড. সুজিত সরকার, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, গ্রাম থিয়েটারের বিভাগীয় সমন্বয়কারী কামারুল্লাহ সরকার কামা, মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায় প্রমুখ।
আলোচনায় বলা হয়, সাম্প্রতিকালে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা উৎকণ্ঠিত করেছে। পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিজাত পরিবর্তন, নববর্ষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে আক্রমণ, পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের সময় সংকুচিত করা, ভাস্কর্য অপসারণের দাবি, কওমি মাদ্রাসার মাস্টার্স সম্মান দেয়ার ঘোষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে মৌলবাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের আপস ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় দেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষ ব্যথিত ও হতাশ হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক দেশের এসব ষড়যন্ত্র চলতে দেয়া যাবে না। নারীদেরকে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে রাখার কথা বলে তাদেরকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করেছে বিকৃত রুচির যে লোক, যে ব্যক্তি দেশের সকল ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, পহেলা বৈশাখ আর মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে।
আলোচনায় আরো বলা হয়, এবছর প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে তা স্বাভাবিক নিয়ম মেনে হয় নি। পাঠ্যপুস্তকের ১৩ জন সম্পাদক গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন এই পরিবর্তনগুলো তাদের অজান্তে করা হয়েছে। ২০১৭ সালের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বই বিতরণ সরকারের প্রশংসনীয় হলে, পাঠ্যবইগুলোতে ছাপার ভুল, বানান-তথ্য বিকৃতি এবং সাম্প্রদায়িকরণ নিয়ে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকগুলোতে যে ভুল ও তথ্য ইতিহাস বিকৃতির ছড়াছড়ি। এর মধ্যে বানান ও তথ্যগত বিকৃতি, বাক্য গঠনে ভুল, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ ঘটানো। শিক্ষা ও সংস্কতি চর্চাকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বললেও, পাঠ্যপুস্তকে কেন এই পশ্চাদপসরণের চিত্র ?। সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার ‘দাওরায়ে হাদিসকে ¯্নাতকোত্তর বা এম.এ সমমানের সরকারি স্বীকৃতি এবং সুপ্রিম কোর্টের সামনে নির্মিত ন্যায় বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য অপসারণের কথা দেশের অসাম্প্রতিক মানুষকে গভীরভাবে উৎকণ্ঠিত ও বিচলিত করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ