পাঠ্যাভাস উন্নয়ন কর্মসূচি || সেরা সংগঠকদের অভিনন্দন

আপডেট: জুন ১৯, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী বিভাগের মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬৪টি স্কুলকে ‘সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কার’ দেয়া হয়েছে। পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচিতে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কার লাভ করেছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে রোববার প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার ২৬টি উপজেলার এক হাজার ৬৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংগঠককে সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কার-২০১৬ প্রদান করা হয়।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে পাঠ্যাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংগঠকদের সমন্বয়ে ‘সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। সারা দেশে মোট এক হাজার ১৮৪ জন সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংগঠকরা বলেছেন, ২০১৭ সালে সারা দেশে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির ২১ লাখ ৭০ হাজার পাঠক হয়েছে। ২০৪১ সালের যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখছেন, সেই উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষারও উন্নতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে পাঠ্যাভাস কর্মসূচি।
সন্দেহ নেই আশা জাগানিয়া একটি কর্মসূচি। যে মুহূর্তে দেশের শিক্ষামান নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে- তখন এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। সেরা সংগঠক সম্মামনার ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগের অবস্থান দুর্বল মনে হয়। এ সংখ্যাটি আরো বড় করার জন্য সক্ষমতা অর্জনের প্রয়োজন আছে।
রাজশাহীকে শিক্ষা নগরী হিসেবেই আমরা রাজশাহীবাসী উল্লেখ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এর যথেষ্ট যৌক্তিকতাও রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজশাহী ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। রাজশাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা এবং সফলতম মান গৌরবোজ্জ্বল অতীতের সাক্ষ্যবহন করে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেছে কি? নেতৃত্বের দুর্বলতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা টানাপোড়ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। সময়ের গতিধারায় শিক্ষা-সংগঠনকে সমানভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। পড়ার অভ্যাসটা একেবারে হারাতে বসেছি। এর মানে এই নয় যে, সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। রাজশাহীতে বৈচিত্রময় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সমষ্টিই বলে দেয় রাজশাহী শিক্ষা সম্ভাবনার অবারিত দ্বার উন্মোচিত হয়েই আছে। মুক্ত জ্ঞান চর্চার জন্য, বহুত্ব ধারণার চিন্তা বিকাশের জন্য শিক্ষা-সংগঠকের ভূমিকা আজ বড়ই প্রত্যাশিত। শিক্ষা মানের উৎকর্ষতা যদি শুধু অর্থ উপার্জনের আকাক্সক্ষা হয়, সে শিক্ষা মানবিক সমাজের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে- এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষা মানের উদ্দেশ্য মনুষত্বের মানদ-েও বিবেচনা করার সময় এসেছে। আর এ ধারণাকে শিক্ষা-সংগঠরাই এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
রাজশাহী বিভাগের সেরা সংগঠকদের অভিবাদন জানাই। তাদের প্রতি যে সম্মমনা-স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তাতে তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। আরো সেরা সংগঠক তৈরিই তাদের ব্রত হবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই। তাঁরা অন্যের মধ্যে নিজেদের সঞ্চারিত করে আরো বড় মাপের মানুষ হবেন সেই প্রত্যাশ্যা আমাদের রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ