পাতলা দইয়ে সবার মনোরঞ্জন

আপডেট: July 13, 2020, 10:57 pm

শাহিনুল আশিক, মান্দা থেকে ফিরে:


প্রত্যেকদিন এভাবেই কাঁধে দই নিয়ে ফেরি করে বেড়ান মনোরঞ্জন দাস-সোনার দেশ

সকাল সাতটা। রাজশাহী থেকে উদ্দেশ্য নওগাঁর মান্দা। কাজ শেষ বাড়ি ফেরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। পথে মান্দার নারায়ণপুরহাট এলাকায় দেখা শ্রী মনোরঞ্জন দাস (৫০)-এর সাথে। মনোরঞ্জনের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। যে কাজ পায় সেই কাজই করেন। তবে যে কাজটি তিনি ১৪ বছর বাসায় থেকে করে আসছেন-তা হলো ‘পাতলা দই’ বিক্রি। যা এখন স্থায়ী পেশায় রূপ নিয়েছে মনোরঞ্জনের।

 

পাতলা দই’র স্বাদে রয়েছে ভিন্নতা, কোনোটা আম্বল (টক) কোনোটা আবার মিষ্টি। মজার বিষয় হচ্ছে কোনো হোটেল বা দোকানে পাওয়া যাবে না। ‘পাতলা দই’ খেতে হলে মনোরঞ্জনের কাছেই আসতে হবে। পুরানো এই মানুষটিকে অনেকেই ‘দই দাদা’ বলেও ডাকেন।
শ্রী মনোরঞ্জন জানান, তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ‘পাতলা দই’ বিক্রি করেন। মান্দা ও মোহনপুরের কেশরহাটের সড়কে। শুধু শনিবার মোহনপুরে। আর প্রতিদিন কেশরহাটে বিক্রি করেন দই। বিক্রি না হলে পথে যাওয়া আসার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। মনোরঞ্জন জানান, তার বেশকিছু প্রতিদিনের ক্রেতা আছে কেশরহাটে।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর দরে পাতলা দই বিক্রি করি। বাবা নগরচন্দ্র দাসের হোটেলের ব্যবসা ছিলো। মূলত সেখান থেকেই দুই বিক্রি শুরু। অগে সংসার নিয়ে বাবার অনেক কষ্ট হতো, পাঁচ ভাই-বোনের সংসার ছিলো। সবাই একে একে আলাদা হলো বিয়ের পরে। তখন সবকিছু আমার কাঁধে। অল্প ক্লাসেই লেখাপড়া বন্ধ। পরে আর কপালে জোটেনি। তবে আমার এক ছেলেকে রাজশাহী ভার্সিটি (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) পড়াচ্ছি। এটা আমার কাছে অনেক গর্বের। আরেক ছেলে মোহনপুর কলেজে পড়ে।’

মান্দায় দই কেনার সময় মোহনপুরের ধোপাঘাটা এলাকার কলেজ ছাত্রী নাসরিন বলেন, আগে গ্রামের ভেতরে দই বিক্রি করতেন মনোরঞ্জন দাদা। এখন আর দেখতে পাওয়া যায় না। দাদার দইয়ের অনেক কদর রয়েছে।
মনোরঞ্জন দাস জানান, প্রতিটি দই’র ভার ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ টি দই’র ভাড় বিক্রি হয়। প্রতিদিন যা বিক্রি হয়, তাতে শাক ভাত হয়ে যায়।’