পাবনায় পশুর হাট দাম কম হওয়ায় খুশি ক্রেতা, হতাশার সুর বিক্রেতাদের কন্ঠে

আপডেট: জুন ১৩, ২০২৪, ১:৫৩ অপরাহ্ণ


শাহীন রহমান, পাবনা :


কোরবানীর ইদকে সামনে রেখে পাবনায় শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে পশুর হাটে কেনাবেচা। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম তুলনামুলক কম হওয়ায় খুশি ক্রেতারা। হাট ঘুরে কিনছেন পছন্দের কোরবানির পশু। পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু। বিপরীতে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশার সুর বিক্রেতাদের কন্ঠে।

পাবনার অন্যতম বড় পশুর হাট বেড়া পৌরসভার চতুরহাট ও ঈশ^রদী উপজেলার অরনকোলা হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হাট চত্বর। কোরবানির ইদ ঘিরে জমে উঠেছে পশু কেনাবেচা।

ক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, কোরবানি দিতে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে গরু। তাই ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে হাট ঘুরে পছন্দের গরু কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। হাটগুলোতে বড় গরুর চাহিদা কম। পছন্দের তালিকায় রয়েছে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে ছোট ও মাঝারি গরু।

তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পাবনায় গরুর দাম তুলনামুলক কম। তাই স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলছেন ক্রেতারা। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কোরবানির গরু কিনতে পেরে খুশি তারা।

অরনকোলা হাটে গরু কিনতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, এবছর গরুর দাম কমই আছে। পছন্দসই পাওয়া যাচ্ছে। সাধ্যের মধ্যে দেখেশুনে গরু কিনতে পেরে খুশি তিনি। আরেক ক্রেতা বকুল হোসেন বলেন, গরুর দাম মোটামুটি হাতের নাগালের মধ্যে আছে। প্রচুর গরু আসছে হাটে। তবে ছাগলের দাম একটু চড়া মনে হয়েছে।

বিপরীতে হতাশার সুর বিক্রেতাদের কন্ঠে। গরু বিক্রেতা আজাহার আলী বলেন, আশানুরূপ দাম পাচ্ছি না। হাটে প্রচুর গরুর আমদানী। ক্রেতাও কম মনে হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উল্টো লোকসান দিতে হচ্ছে তাদের। মহির উদ্দিন নামের এক বিক্রেতা বলেন, আমি একটা গরু কিনছিলাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

এখন হাটে সেই গরুর দাম বলছে ১ লাখ ২০ হাজার। উপায় না থাকায় লোকসানেও গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, খামারিদের নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে পাশে রয়েছে প্রাণীসম্পদ দপ্তর। দেশীয় পদ্ধতিতে সুস্থ্য গরু লালন পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। কোনো গরু অসুস্থ্য হলে তার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আবার ক্রেতাদের সুস্থ গরু চিনতে সহায়তা করা হচ্ছে। এবার পাবনায় চাহিদার দিগুন পশু উৎপাদন হয়েছে। আমদানী বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, পাবনা জেলায় ষাঁড় গরু পালনকারী খামারি রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩ লাখ ১২ হাজার। আর জেলায় উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার পশু। উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ২২ হাজার পশু চলে যায় সারাদেশে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version