পাবনায় বিশ্ব পানি দিবস পালিত

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৪, ৫:১৪ অপরাহ্ণ

পাবনায় বিশ্ব পানি দিবস পালিত
পাবনা প্রতিনিধি:


শুক্রবার (২২ মার্চ) পাবনায় পালিত হয়েছে বিশ্ব পানি দিবস। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বেলা ১১ টায় শোভাযাত্রা পরবর্তী এক আলোচনা সভা ডিডি এলজি (উপসচিব) মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার সহকারি পরিচালক মোশারফ হোসেনের তথ্যবহুল উপস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, এডিসি সার্বিক মো. শরিফ আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট আব্দুল হামিদ খান, দৈনিক সিনসার সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম প্রমুখ।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পাবনা জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, বিআরআরডি’র উপপরিচালক রেজাউল করিম, বিএডিসির উপপরিচালক শামিম আহমেদ, জনশক্তি ও কর্মসংসংস্থানের সহকারি পরিচালক আখলাকুজ্জামান, সহকারি তথ্য কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. নওফেল হোসেন, সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ প্রধান সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানা প্রমুখ।

ডিডি এলজি সাইফুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পানি। আগেকার দিনে নদীকেন্দ্রীক বসতি গড়ে উঠতো, সভ্যতাও গড়ে উঠতো নদীকে কেন্দ্র করেই। বর্তমানে যা রূপকথার গল্পে পরিণত হয়েছে। তবে সরকারের গৃহীত ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে আশা করা যায় ২০৪১ সালের মধ্যেই পানি সমস্যার সমাধান হয়ে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। পানি যাতে অপচয় না হয় সে ব্যাপারে তিনি সবাইকে সচেতনতার সাথে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইছামতি পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের পরিচালক সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, নদীগুলো মরে যাওয়ার পেছনে আমাদের মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী। তিনি বলেন, প্রতিবছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন জেলার নদী ও খাল-বিল খনন করে চলেছে। স্ব স্ব এলাকার মানুষ যদি নদী তথা খাল বিলের প্রতি সজাগ হয়, সচেতন হয়, তবেই আমাদের দেশে নদীর অস্তিত্ব রক্ষা সম্ভব।

নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর তিন ভাগই জল আর এক ভাগ স্থল, তবুও সুপেয় পানির অভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। পানির স্তর দ্রুত নীচে নেমে যাচ্ছে, এখন গভীর নলকূপ ছাড়া পানি পাওয়াই দূষ্কর হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট আব্দুল হামিদ খান বলেন, প্রাণের উৎস পানি। পানির অপর নাম জীবন কথাটা সনাতন হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ কেবল পানের জন্যই নয়, দৈনন্দিন জীবনে ঘর গেরস্থালি থেকে কৃষিকাজ তথা নানান কাজে পানির অপরিহার্যতা অস্বীকার করার উপায নেই। বিজ্ঞানীরা চাঁদে ও মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাচ্ছে, পানির অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছে। সেখানে পানির সন্ধান পেলেই মিলবে প্রাণের অস্তিত্ব। পানি পাওয়া গেলেই পৃথিবীর মানুষের পরবর্তী বাসস্থান হবে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহ।
তিনি বলেন, ফারাক্কার বিরুপ প্রভাবে উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। রাজশাহীর পদ্মা নদীর টি-বাঁধে গিয়ে দাঁড়ালে চোখে পড়ে কেবল ধু-ধু বালুচর।