পাবনায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট: জুন ২২, ২০২৪, ৩:১৯ অপরাহ্ণ


পাবনা প্রতিনিধি :


পাবনার সুজানগরে পুর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আল আমিন মিয়া (৩৮) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২১ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের রানীনগর ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন রানীনগর ইউনিয়নের মৃত মৃত শহিদুর রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি রানীনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে যুবলীগ নেতা আল আমিন আত্মীয় বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রানীনগর ক্লাবের সামনে পৌঁছালে পুর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে তাকে নামিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়

স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেবার পথে মারা যান তিনি।

সুজানগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ বলেন, সে রানীনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন। তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।
আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুর্ব শক্রতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারবো। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, শনিবার দুপুরে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত কেউ মামলার অভিযোগ দেয়নি।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদন্নোতিপ্রাপ্ত) মাসুদ আলম বলেন, সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে পুর্ব থেকেই ওই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরই সূত্র ধরে আজকে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, প্রথমধাপে গত ৯ মে সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে জয়লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব। নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব ও সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থকদের মধ্যে রানীনগরে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে কয়েকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আল আমিন নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থক বলে জানা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ