পাবনার প্রবাসীকে লিবিয়ায় জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দেশে দুই সহযোগী আটক

আপডেট: জুন ৭, ২০২৪, ৯:২০ অপরাহ্ণ


পাবনা প্রতিনিধি:


লিবিয়ায় অবস্থানরত পাবনার এক প্রবাসীকে জিম্মি করে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে বাংলাদেশে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে অপহরণ চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে এ তথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, হাবিবুর রহমান সুমন (৩০) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিনের দক্ষিণ পশ্চিম দিঘলদি এলাকার মৃত পন্ডিত আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং রবিউল আওয়াল রবি (২৮) একই এলাকার দেলোয়ার হোসেন গাজীর ছেলে।

পুলিশ সুপার আকবর আলী অভিযোগের বরাত দিয়ে জানান, মাসুদ রানা (৪০) নামে পাবনার এক ব্যক্তি গত ৪ বছর যাবত লিবিয়ার সিটি খলিফা নামক স্থানে দরজির দোকান নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ১৪ মে সকাল ৮টায় অজ্ঞাতনামা ইমো নম্বর হতে ভুক্তভোগী মাসুদের স্ত্রীর ইমো নম্বরে ফোন করে অপহরণকারী সদস্যরা বলে তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। জীবিত ফেরত চাইলে তাদের ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। টাকা না দিলে মাসুদকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

অপহরণকারীরা বাংলাদেশী বিকাশ নম্বর দেয় এবং টাকা পাঠাতে বলে। মাসুদের অসহায় বাবা ধার-দেনা করে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বরে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। উক্ত টাকা পাওয়ার পর গত ২০ মে অপহরণকারীরা আবারও ইমো নম্বর থেকে পুনরায় ফোন করে আরো ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ও মাসুদকে মারধরের ভিডিও পাঠায় পরিবারের কাছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এক পর্যায়ে মাসুদের মা মলিনা খাতুন গত বুধবার (৫ জুন) পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন মামলা হিসেবে নথিভূক্ত হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে ডিবি টিম তথ্য প্রযু্ক্িতর সহায়তায় ও অনুসন্ধানী নানান কৌশল ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে লিবিয়ায় থাকা অপহরণকারীদের পুর্বপরিচয় আছে। অপহরণকারীরা অপহৃতদের পরিবারের পাঠানা টাকা দেশে থাকা সুমন ও রবির মাধ্যমে লেনদেন করতো। লিবিয়ায় থাকা অপহরণকারীদেরও পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে এই মুহুর্তে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আমরা লিবিয়ায় অপহৃতকে উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version