পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকিতে বিশ্ব || দক্ষিণ এশিয়ায়ও অস্থিরতা বাড়ছে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব এখন বড়ই অস্থির। সহিষ্ণুতার বড়ই অভাব। মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চারকণ্ঠ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও বেশ গতি পাচ্ছে। স্বার্থের টানাপোড়ন, কুপমণ্ডকতা, হিংসা-বিদ্বেষ, সরবে-নিরবে তিব্র সাম্প্রদায়িকতা মানব সভ্যতাকে জর্জরিত করে তুলেছে। এক ধরনের যুদ্ধাংদেহী মনোভাবের প্রদর্শন এখন পৃথিবীর জন্য নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে দেশে নেতৃত্বের দুর্বলতা খুবই প্রকট হয়ে উঠছে। বিশ্ব নেতৃত্ব যেন খেই হারাতে বসেছে।
যুদ্ধের হুঙ্কার এখন নিত্যদিন বিশ্ববাসীকে শুনতে হচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র-যুদ্ধের খুব কাছাকাছি- বিশ্ব পরিস্থিতি তা-ই মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রতিদিনের বাক-বিতণ্ডা তো মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়েই চলেছে। আবার আমেরিকা ও চিন মাঝেমধ্যেই সামরিক চড়া গলায় একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। তুরস্কের সাথে ইদানিং আমেরিকার মোটেও বনিবনা হচ্ছে না। ঠিক এমনই যখন অবস্থা তথনই পাকিস্তান ঘোষণা দিয়ে বসলো যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ভারতকে উদ্দেশ্য করেই। একেবারে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র যুদ্ধের হুমকি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ আব্বাসি ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে বসেছেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জাতিসংঘের ৭২তম বৈঠক যখন চলছে, তখনই এ ধরনের হুমকি আসলো ভারতের বিরুদ্ধে।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল৷ পাকিস্তানের হাতে রয়েছে প্রায় ১৩০টি পরমাণু বোমা৷ সেই পারমাণবিক অস্ত্র জেহাদিদের হাতে পড়লে ফল ভয়ঙ্কর হবে৷ এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকাও৷ বুধবার, সবাইকে আশ্বস্ত করে পাক প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষিত রয়েছে৷ সেগুলির নাগাল পাবে না সন্ত্রাসবাদীরা৷ দেশের আকাশকে লৌহবেষ্টনীতে মুড়ে ফেলতে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ‘ট্রায়াম্ফ’ ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ব্যবস্থা কিনতে চলেছে ভারত। ‘ট্রায়াম্ফ’ ৪০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্তত ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করতে সক্ষম৷ একইসঙ্গে তিন ডজন লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংসও করতে পারবে৷ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ও সরকারি ভবনগুলি এর ফলে নিরাপদ হবে৷ পাক ও চিনা পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকেও অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকবে ভারত৷
পাক-ভারত সম্পর্ক দেশ দুটি স্বাধীনের পর থেকেই কোনেদিনই স্বাভাবিক ছিল না। ইতোমধ্যেই দেশ দুটি দু’দুবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি সহসাই স্বাভাবিক হবে তেমনটি বলার কোনো সুযোগ নেই। যখন কি না পাকিস্তানের মত জঙ্গি-সন্ত্রাসে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা দানকারী দেশের অস্তিত্ব বিদ্যমান। পাকিস্তান তার নিজ ভূখণ্ডেই শুধু জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের নৈরাজ্য কায়েম করেনিÑ দেশটি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে চলেছে। পাকিস্তানের জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের প্রতি দেশটির সেনাবাহিনির পূর্ণ সমর্থন আছে। তাই এটা কোনোভাবেই আশস্ত হবার সুযোগ নেই যে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠির হাতে যাবে না। এ আশংকা থেকেই যায়। তখন আর ব্যাপারটি শুধু ভারত-পাকিস্তানের নয়, উপমহাদেশের সব কটি দেশের জন্য তা হুমকিস্বরূপ। এসব দেশের মানুষকেও আতঙ্ক গ্রাস করবে এটাই স্বাভাবিক। সার্কভুক্ত দেশগুওেলার রাষ্ট্র- নেতৃত্বের জন্য সময় এসেছে বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবনার। এ অঞ্চলকে অস্থিরতামুক্ত রাখেতে অবশ্যই আন্তরিক প্রয়াস এই মুহুর্তেই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ