পারলেন না মুশফিক-তামিম-সাকিবও

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ দলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান। শুনিয়েছিলেন আশার কথা। তার দৃষ্টিতে ড্রই ছিল গল টেস্টের সম্ভাব্য ফলাফল। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় উল্টো খেলতে পেরেছে দেড় সেশনেরও কম। আরও একবার স্বপ্ন ফিকে হলো কোটি বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তের।
স্বপ্নের ভিত আগের দিন গড়ে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। এ দুই ব্যাটসম্যান সাবলীল ব্যাটিং করে গড়েছিলেন ৫৭ রানের জুটি। শেষ দিনের শুরুতেই ব্যাটসম্যানদের উইকেট পতনের মিছিলে ছিন্নভিন্ন হয় সে স্বপ্ন। মাত্র ১৯৭ রানেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস।
তবে বাংলাদেশের স্বপ্নটা ছিল সাকিব, তামিম আর মুশফিককে ঘিরেই। কারণ চতুর্থ ইনিংসে এ তিন তারকার ব্যাটই বরাবর হেসেছে। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের এ তিন তারকাই করেছেন পাঁচ শতাধিক রান। গল টেস্টের আগে চতুর্থ ইনিংস খেলার সুযোগ হয়েছে এমন টেস্ট খেলেছেন সাকিব ১৭টি, মুশফিক ১৮টি ও তামিম ১৬টি। তাতে ৫৯৩ রান করেছেন সাকিব। আর মুশফিক ৫৪৬ ও তামিম ৫০৪ রান।
গতকাল শনিবার এ তিন তারকাই ব্যর্থ। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা মুশফিকও এদিন আউট হয়েছেন অবিবেচকের মতো। লেগ স্ট্যাম্পের ফুটখানেক বাইরের বলে অযথা খোঁচা মারতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। এর আগে তামিমও করেছেন প্রায় একই কাজ। একমাত্র সাকিবের আউটটাতেই কিছুটা দুর্ভাগ্য ছিল।
অথচ পঞ্চম দিন হলেও উইকেট ছিল প্রাণবন্ত। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অকপটে এ কথা স্বীকারও করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক, ‘আমার কাছে মনে হয় ব্যাটিং করার জন্য এখনও এটা ভালো উইকেট, পঞ্চম দিনের উইকেট বলে মনেই হয় না।’
তবে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের এ হাল নতুন কিছু নয়। শুরুটা সেই অভিষেক টেস্ট থেকেই। প্রথম ইনিংসে ৪০০ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছিল মাত্র ৯১ রানে। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড ও ভারত সিরিজেও একই চিত্র দেখেছে বাংলাদেশ। ৯৯টি টেস্টের ইতিহাসে মাত্র তিনবার চতুর্থ ইনিংসে ১০০ ওভারের বেশি খেলতে পেরেছেন টাইগাররা।