পারিবারিকভাবে ভালো নেই পত্নীতলায় বয়স্করা

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১১:১০ অপরাহ্ণ

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি :


আম পাকলে মিঠা হয়। মানুষ পাকলে তিতা হয়। প্রতি বছর ১ অক্টোবর ঘটা করে ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ পালন করা হলেও নওগাঁর পত্নীতলায় ভাল নেই প্রবীণরা। পাঁচ কন্যা সন্তানের জনক-জননী মৃত শফি উদ্দিন মন্ডল ও মৃত আছিয়া বিবিকে শেষ বয়সটা কাটাতে হয় নজিপুর পৌরসভার আলহেরা স্কুল পাড়ার মেয়ে-জামাইয়ের বাসায়। বাড়ি-ঘর, জমা-জমি সবই ছিলো। বড় মেয়ের এক ছেলেকে এনে রেখে দিয়েছিলেন শেষ বয়সে দেখ-ভাল করার আশায়। বাড়ি-ঘর ও কিছু জমিও তাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু, বিধিবাম! বুদ্ধি ও বয়স বাড়ার সাথে-সাথে সে তার নানা-নানিকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আলহেরা স্কুল পাড়ার আরেক হতভাগিনী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামীর প্রায় ১শ বিঘা জমি ছিল। অথচ, আমার কপালের লিখন, একমাত্র ছেলের বাসায় থেকেও আমাকে ভিন্ন হাঁড়িতে রান্না করে খেতে হয়।

পতœীতলায় এমন দৃশ্য ভুড়ি-ভুড়ি রয়েছে। ছেলেরা বড় হয়ে বাবা-মাকে দেখে না বলে কাঁধে উঠেছে ভিক্ষের ঝুলি। আর ঠাঁই হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের দু’শতক জমির ওপর নির্মিত নয়নাভিরাম বাড়িতে। দেশে মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশ এর বেশি প্রবীণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নজিপুর সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ জন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও একজন প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধা শোনালেন তাঁদের দিন যাপনের পাঁচালী। তিন জনেরই দু’টো করে পুত্র সন্তান এবং তাঁরা প্রতিষ্ঠিত। স্ত্রীদের ভয়ে তাঁরা বাবাদের ভালোভাবে দেখভাল করে না। অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা পরিবারের মধ্যে থেকেও নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। পতœীতলা উপজেলার হরিপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল গফুর (৭৫) তাঁর দুঃখের কাহিনী বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন এবং কাঁদালেন এই প্রতিবেদককে, “চার ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের সবার ভিন্ন চাল-ভিন্ন চুলু। ভাগের বাপ হয়ে ঘাটের মরা বৃদ্ধ গফুর মিঞা বিড়ি ফুঁকছিলেন। ওষুধ নেই-পথ্য নেই-নেই পুষ্টিকর খাবার!

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন- এর আজীবন সদস্য এম.এ গফুর বলেন, সরকার ২০১৩ সাল থেকে দেশে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন প্রবর্তন করলেও এখনো অনেক পরিবারের বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের নিকট থেকে ভরণ-পোষণ পাচ্ছেন না। শিকার হচ্ছেন বঞ্চণার। ভাসছেন বিষাদসিন্ধুর অথই দরিয়ায়। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং এ সম্পর্কে মানুষের অসচেতনতা বহুলাংশে দায়ী।