পার্টিতে নাচ-গানের ভিডিও ফাঁস, আলোচনায় ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২২, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

সংগীত ও টিভি তারকা বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে নেচে-গেয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন।

সোনার দেশ ডেস্ক :


স¤প্রতি ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে তাকে বন্ধুদের সঙ্গে নাচতে এবং গাইতে দেখা যায়, যা নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন তার বিরোধীরা।
বিরোধীদলীয় এক নেতা সানা মারিনের ড্রাগ টেস্ট করারও দাবি তুলেছেন। পার্টিতে নাচ-গানের কথা স্বীকার করলেও মাদক নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ নাকচ করেছেন ফিনল্যান্ডের সরকারপ্রধান।

৩৬ বছর বয়সী সানা মারিনের দাবি, তিনি কেবল অ্যালকোহল পান করেছিলেন, পার্টিতে হৈ-চৈ আর উল্লাসেও ছিলেন, আর সে সবই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
২০১৯ সালে দায়িত্বগ্রহণের সময় বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী সরকারপ্রধান ছিলেন সানা মারিন। তবে সেই তকমা এখন চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিকের দখলে।

ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী তার পার্টির খবর সাধারণত গোপন করেন না এবং বিভিন্ন সংগীত উৎসবে প্রায়ই তাকে ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি হতে দেখা যায়।
গত বছর কোভিড আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আসার পর ক্লাবে গিয়ে পার্টি করার অভিযোগ উঠলে তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। গত সপ্তাহেই তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রধানমন্ত্রী’ অ্যাখ্যা দেয় জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ড।

স¤প্রতি প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে সানা মারিন বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি জানতেন ভিডিও করা হচ্ছে, কিন্তু তা জনসম্মুখে প্রকাশ করায় তিনি হতাশ।
“পার্টিতে আমি নেচেছি, গেয়েছি, যা পুরোপুরি বৈধ। আর এমন কোনো পার্টিতে আমি ছিলাম না, যেখানে আমি কাউকে দেখেছি বা চিনি যে মাদক নিয়েছে।”

তাকে স্বেচ্ছায় ড্রাগ টেস্ট করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রিকা পুরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘সন্দেহের মেঘ’ জমছে।
সানা মারিনের জোট সরকারের শরিক সেন্টার পার্টির এমপি মিকো কর্নও এক টুইটে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় ড্রাগ টেস্ট করলে সেটা ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে।

তবে নিজের বক্তব্যের পক্ষে অটল মারিন। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, তিনি মাদক নেননি। অবশ্য ড্রাগ টেস্ট করাতেও তার আপত্তি নেই।
“আমার বয়সী অন্য অনেকের মত আমারও পারিবারিক ও কর্মজীবন আছে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ আছে।”
নিজের আচরণ পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন আছে বলেও মনে করছেন না এই তরুণ রাজনীতিবিদ।

সিএনএন লিখেছে, ভিডিওটি যে ব্যক্তিগত, সে কথা তুলে ধরে তা এভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই প্রধানমন্ত্রী।
ফিনল্যান্ডের কুওপিওতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এই ভিডিওগুলো ব্যক্তিগত এবং ব্যক্তিগত জায়গাতেই ধারণ করা হয়েছে। আমি মর্মাহত, এগুলো সবার কাছে চলে গেছে।”

তবে ‘ব্লাকমেইলিংয়ের’ পরিকল্পনা করে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন না সানা মারিন।
তিনি বলেন, “আমি ব্লাকমেইলিংয়ের শিকার হচ্ছি না। এগুলো ব্যক্তিগত ভিডিও এবং তা প্রকাশ্যে আসার কথা ছিল না। এই গ্রীষ্মে ব্যক্তিগত একটি বাড়িতে এগুলো ধারণ করা হয়েছে। আমি বলছি না, সেটি কার বাড়ি ছিল।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের অনেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর পাল্টা সমালোচনা করেছেন।
সুইডেনের উপশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রিসার্চের অধ্যাপক অশোক সোয়াইন টুইটে বলেছেন, “কাজের পর কেন তিনি পার্টি করতে পারবেন না। আমরা কি চাই আামাদের নেতারা মানুষ হবেন না।”

বিরোধী কিছু দল আবার প্রধানমন্ত্রী ও সংবাদমাধ্যম উভয়েরই সমালোচনা করেছেন। দেশের ভেতরে অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কথা না বলে কেবল পার্টির বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকায় তারা সংবাদমাধ্যমগুলোকে সমালোচনা করেছেন।
কে এই সানা মারিন
২০১৯ সালে ৩৪ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিনল্যান্ড সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসেন। তার দলের সাবেক নেতা অ্যান্তি রিনের উত্তরসূরী তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, ছোটবেলায় মারিনের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় এবং মায়ের কাছেই তিনি বড় হন।
তার মা সমলিঙ্গের সম্পর্কে জড়িয়েছেন জানতে পেরে ২০১৫ সালে বিষয়টি নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ট্যাম্পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে স্থানীয় সরকারের একটি পদে চাকরি করেন মারিন। ২০১৫ সালে ২৯ বছর বয়সেই তিনি ফিনল্যান্ডের সংসদে নির্বাচিত হন।

বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি যে ভিডিও ছড়িয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী সানা মারিনের সঙ্গে ফিনিশ গায়ক অ্যালমা, র‌্যাপার পেত্রি নিগার্দ এবং টিভি উপস্থাপক তিন্নি উইকস্ট্রোমকে দেখা গেছে। আরও কয়েকজন সেলিব্রেটি ও তার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপিদেরও সেখানে দেখা গেছে।
তথ্যসূত্রধ বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ