পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ায় দুই খনি শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৯, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

পার্বতীপুর প্রতিনিধি


পার্বতীপুরে বডপুকুরিয়া কয়লা খনির নির্মাণাধীন জেনারেটর হাউজ এর ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যেই গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেছে। এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম গত রোববার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ছাদ ধসে নিহত শ্রমিক প্রশান্ত রায় ও আকাশ বাবুর সৎকার কাজ গত সোমবার বিকেলে তাদের নিজ নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, খনিতে ছাদ ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সোমবার জেলা প্রশাসন থেকে ডিডিএলজি আবদুর রহমানকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- পার্বতীপুর-ফুলবাড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান ও পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শামীম আক্তার। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-মাইন অপারেশন) মোহাম্মদ এসএম ইফতেখার আলম চৌধুরীকে আহবায়ক করে চার সদস্যের অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) জাহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (ভান্ডার) আক্কাস আলী ও ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুন্সি আলাউল হক। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে, নিহত প্রশান্ত রায় ও আকাশ বাবুর পরিবারকে আড়াই লাখ করে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে সাব কন্ট্রাক্টর মেসার্স আমীন ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী রুহুল আমীন সরকার বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছেন। তবে মেসার্স আমীন ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী রুহুল আমীন সরকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান- বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিলটনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে জেনারেটর হাউজ নির্মাণের কাজ চলছিল। এক্সএমসি-সিএমসি জেনারেটর হাউজটি নির্মাণের জন্য সাব কন্ট্রাক্ট দেয় দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার মেসার্স আমীন ট্রেডার্সের সত্বাধীকারী রুহুল আমীন সরকারকে। গত রোববার খনি কম্পাউন্ডের উত্তর-পূর্ব কোণে নির্মাণাধীন জেনারেটর হাউজটির ছাদ ঢালাই কাজ চলছিল। পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলার ৭০ জন শ্রমিক ঢালাইয়ের কাজে নিয়োজিত ছিল। ভবনের এক তৃতীয়াংশ ঢালাই হওয়ার পর পরই বিকেলে আকষ্মিকভাবে এর পুরো অংশ ধ্বসে পড়ে।
এ সময় পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের চৗহাটি গ্রামের দিনেশ চন্দ্র রায় (ভেগু রায়) ছেলে প্রশান্ত রায় (১৭) ও ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের গোলাপ হোসেনের ছেলে আকাশ বাবু (২২) নামে দুই শ্রমিক ছাদের নিচে চাঁপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় গুরুত্বর আহত হন আরও ৭ শ্রমিক। পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট পাচঁ ঘন্টা চেষ্টার পর ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে প্রশান্ত রায় ও আকাশ বাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই তদন্ত কাজ শুরু করেছ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ