পার্বতীপুরে চুরির অপবাদ, অভিমানে স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২১, ৩:২২ অপরাহ্ণ


এম এ আলম বাবলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :


দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিটে নির্যাতন করার পর সেই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করার অভিমানে ঘরের মধ্যে কোঠার বাঁশের সাথে রশি লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মোরছালিন আকিব বাবু (১৭) নামে এক স্কুল ছাত্র।

মোরছালিন পার্বতীপুর উপজেলার রঘুনাথপুর চয়েনপাড়া গ্রামের মোঃ মতিয়ার রহমানের ছেলে। তার এবার নুরুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস, এস, সি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে (মামলা নং-১৮, তারিখ-২১/০৮/২০২১ইং)। মতিয়ার রহমান তার ছেলে মোরছালিন আকিব বাবুর ময়না তদন্তের সুরতাল সংগ্রহ করে থানায় মামলা করতে গেলে থানায় অফিসার ইনচার্জ বাদীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন

। এ কারণে মামলা বিলম্ব হওয়ার পর তার ছেলে মোরছালিন আত্মহত্যার কারণ খুজতে গিয়ে তার লেখা দুটি প্যাডে চিরকুটসহ রবিবার ৯ জনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩২৩/৩০৬/১১৪/৩৪ ধারা মতে দিনাজপুর জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং- সি আর ২৩৬/২০২১)।
পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ সূত্রে জানা গেছে,

উপজেলার রঘুনাথপুর চয়েনপাড়ার মোহাম্মদ আলীর তিনটি মুরগি নিয়ে মেয়াজ্জেম, মোঃ আলী, শারমিন, ফারুক হোসেন চৌকিদার, মোজাহিদুর রহমান মাজু, সাইদুল ইসলাম, সুলতানা বেগমসহ আরও কয়েকজন বাদীর বাড়িতে ঘটনার দিন সকাল ৮ ঘটিকার সময় আসে এবং বাদী ও বাদীর স্ত্রীকে বলে তোমার পুত্র মোরছালিন কোথায়? সে আমাদের বাসায় মুরগি চুরি করতে গিয়ে মুরগি মারিয়া ফেলে। তখন বাদী বলে আমার ছেলে ফকির বাজারে মাথার চুল কাটানোর জন্য গেছে।

তার কথা শুনিয়া উক্ত ব্যক্তিগণ দ্রæত ফকির বাজার নয়নের সেলুনে গিয়ে চুরি অপবাদ দিয়ে চুল কাটা অবস্থায় সেলুন থেকে মোরছালিনকে নামিয়ে আনে এবং এলোপাতাড়ীভাবে গালে-মুখে ও শরীরে চড় থাপ্পড় মারে অপমান, অপদস্ত করে। পরে ফারুক হোসেন চৌকিদার উক্ত তিনটি মরা মুরগি বাদীর পুত্র মোরছালিনের হাতে ধরাইয়া দিয়ে এ্যানড্রোয়েড মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তুলে ছবিগুলি ইন্টারনেটে ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। কিশোর মোরছালিনকে হাত ধরে টানা হেঁচড়া করে বাদীর বাড়িতে নিয়ে আসে। বাদী মতিয়ার রহমানকে বলে

আগামীকাল সকাল ১০ ঘটিকায় তার বিচার হবে। তাকে গলায় জুতার মালা পরে মুখে চুনকালি মেখে দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরাইয়া এনে তারপর বিচার হবে। মোরছালিনের বাবাকে বলে যে, সে যেন বাড়ীর কোথাও না যায় বলে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান।
এইসব অপমান, অপদস্ত সহ্য করতে না পেরে মোরছালিন শয়নঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তারপর প্যাডের দুটি পাতায় অর্থাৎ দুটি চিরকুটি লিখিয়ে রাতে ঘরের মধ্যে কোঠার বাঁশের সাথে রশি লাগাইয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। চিরকুটে লেখায় দেখা যায় সে মুরগি চুরি করে নাই বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে জোরপূর্বক এই মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার কারণে সহ্য করতে

না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে না উঠায় মোরছালিনকে তার পরিবার ডাকাডাকি করলে সে কোন সাড়া শব্দ না দেওয়ায় দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় তার আত্মহত্যার ঘটনা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ওবায়দুল হক ও সাবেক ইউপি সদস্য এজাজুল হক জানান, উভয় পরিবারের মীমাংসার জন্য সালিশ হয়েছিল। তবে মোজাহিদুর রহমান সাজুর হটকারিতার জন্য মীমাংসা ব্যর্থ হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ