পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় ভরসা ফার্মাসিস্ট

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২১, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতাল

এম এ আলম বাবলু, পার্বতীপুর :


বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃহত্তম চার লাইনের জংশন দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন। রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চল জোনের রেলওয়ে কেন্দ্রীয় লোকোমটিভ কারখানা (কেলোকা) ছাড়াও ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন ডিপো, রেলওয়ে লোকো সেডসহ ডিজেল ওয়ার্কশপের অবস্থান পার্বতীপুরে। এখানে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের রেল কর্মকর্তা, শ্রমিক কর্মচারীসহ প্রায় ১৫ হাজার রেল পরিবার সদস্যের চিকিৎসা সেবার বিপরীতে পার্বতীপুরে চিকিৎসা জন্য রয়েছে ১৬ শয্যা বিশিষ্ট একটি মাত্র রেলওয়ে হাসপাতাল।

তবে নানা সংকটের মুখে নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে হাসপাতালটি। রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের পদ শুণ্য থাকায় প্রতিনিয়তই ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। এতে প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন হাসপাতালের সুবিধা ভোগী এসব রেল কর্মচারীরা।

দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসক না থাকায় বহিরাগত রোগীদের একমাত্র ভরসা ফার্মাসিস্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃটিশ আমলে নির্মিত পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত পদে সহকারী বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার ১ জন, সহকারী সার্জন ২জন, ফার্মাসিস্ট ২ জন, সিস্টার ইনচার্জ ১ জন, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স ৩ জন, জুনিয়র নার্স ১ জন, ড্রেসার ১জন, ওয়ার্ড এটেনডেন্ট ৬জন, ওষুধ ক্যারিয়ার (এমসি) ১ জন, বাবুর্চি ১ জন, মশালচি ১ জন, আয়া ২ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ৫ জন কর্মরত থাকার কথা। তবে, ১৪টি পদে ২৯ জনের বিপরীতে ১ জন ফার্মাসিষ্ট, ১জন সিস্টার ইনচার্জ, ২জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১ জন জুনিয়র নার্স, ১জন ড্রেসার, ১ জন ওয়ার্ড এটেনডেন্ড, ১জন ওষুধ ক্যারিয়ার, ১জন আয়া ও ৪ জন পরিচ্ছন্নকর্মীসহ ১৩ জন লোকবল নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম।

এদিকে, নিরাপত্তা প্রহরীর মঞ্জুরীকৃত ২টি পদ শুন্য থাকায় হাসপাতালের ওষুধ ও মুল্যবান চিকিৎসা উপকরণ যেকোনো সময় চুরির আশংকা রয়েছে।

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা নিতে আসা রেল পরিবারের সদস্য জাকির হোসেন জানান, ডাক্তার দেখাতে অসুস্থ্য মা’কে নিয়ে এসেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত ডাক্তার না থাকায় আমার মত অনেকে এভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাক্তার না থাকায় হাসপাতাল থাকার পরেও বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে ৫শ’ টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। স্থায়ী ডাক্তার নিয়োগসহ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

সেবা নিতে আসা রেল কর্মচারী আব্দুল আলিম জানান, আগে হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার আসতেন। পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে এখানেই ভর্তি করাতাম। এখন ডাক্তার নেই। আগের মতো সেবা পাইনা। গুরুতর অসুস্থ্য কাউকে এখানে আনলে বাইরে পাঠায় তারা।

রাবেয়া বাসরী নামে আরেকজন বলেন, আমার বাবা আব্দুর রহমান ক্যারেজে চাকুরী করতেন। আগে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি চারপাশে ফুলের গাছ, ঝর্ণার পানিতে মাছসহ নয়নাভীরাম পরিবেশ ছিলো। এখন সবই স্মৃতি।

ফার্মাসিস্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পার্বতীপুরে কর্মরত রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় রয়েছে একটি সরকারি ফার্মেসী। কেলোকায় কর্মরত ছাড়া তাদের পরিবারসহ প্রায় ৫-৬ শ মানুষ প্রতিমাসে এ হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন যাবত এখানে স্থায়ী কোন চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা বাইরে যাচ্ছেন। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ রোগ, ডায়াবেটিস, ব্যথা, আহতসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ওষুধ থাকলেও রোগ নির্ণয়ের জন্য তাদের বাইরে ডাক্তার দেখাতে হয়। এক সময় হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে প্রয়োজনীয় লোকবল ও চিকিৎসা উপকরনের অভাবে দীর্ঘ কয়েক যুগ যাবত তা নেই। ফলে গুরুতর রোগী এলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।

লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার আনিসুল হক বলেন, জনবল সংকটের কারণে পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে একজনও নেই। এ ছাড়াও রেলওয়ে ভবনের এডিজিআরএস’র তত্ববধানে পরিচালিত পার্বতীপুর লোকোমোটিভ কারখানার হাসপাতালটিতেও একই অবস্থা। গুরুতর কোন বিষয় হলে ফার্মাসিষ্টরা আমাকে ফোন দিয়ে অনলাইনেই পরামর্শ নেন। সে অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

রেল দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক কর্মচারীসহ স্থানীয় সচেতন মহল পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে সকল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ