পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালের ফিস্টুলা প্রকল্পের সুচিকিৎসায় ফিস্টুলা মুক্ত হলেন আলেয়া বেগম

আপডেট: জুন ২৮, ২০২২, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ


এম এ আলম বাবলু, পার্বতীপুর:


দিনাজপুরের পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতাল কতৃক পরিচালিত নারী জনন অঙ্গের ফিস্টুলা রোগ প্রতিরোধ প্রকল্পের সুচিকিৎসায় ফিস্টুলা মুক্ত হলেন আলেয়া বেগম। তিনি ৩০ বছর ধরে ফিস্টুলায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন।

নারী জনন অঙ্গের ফিস্টুলা প্রতিরোধযোগ্য,ফিস্টুলা আক্রান্ত নারীকে দ্রুততার সাথে নিকটবর্তী স্বাস্হ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করুন। এই আহবান জানিয়ে ২০০৬ ইং সাল থেকে পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফিস্টুলা রোগ প্রতিরোধে একটি প্রকল্প চালু করা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলা ও রাজশাহী বিভাগের ৩ টি জেলার ৯২ টি উপজেলায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে ফিস্টুলা আক্রান্ত রোগীদের। এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৫ শ’ জন ফিস্টুলা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় চিকিৎসার পাশাপাশি তাদেরকে পুনর্বাসনও করা হয়ে থাকে।

এই প্রকল্পের সুচিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন শাহজাদপুরের আলেয়া বেগম।তিনি প্রলম্বিত প্রসব ব্যাথার পর মৃত সন্তান জন্ম দেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন তাঁর মাসিকের পথ দিয়ে অনবরত প্রস্রাব পড়ছে (VVF patient), শরীর থেকে সব সময় প্রস্রাবের দুর্গন্ধ পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

না পারেন কাজ কর্ম করতে না ধর্ম কর্ম করতে।তীব্র শীতের মধ্যে ৩০টি বছর প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছেন। ভেজা কাপড়ে থাকতে হয়েছে আলেয়া বেগমকে। তিনি তাঁর কষ্টের কথা শোনালেন সাংবাদিকদের।

কি করে ভালো হলেন? তাঁর এক আত্মীয়র কাছে জানতে পারেন ফিস্টুলা ভালো হয় অপারেশনের মাধ্যমে। ল্যাম্বের ফিস্টুলা প্রকল্পের কর্মী সৈকত Sabastian Tudu খোঁজ নেন এরপর তাকে ল্যাম্বে পাঠান সার্জারীর জন্যে। অপারেশনের পর দুই সপ্তাহে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেন। ৩০ বছরের অসহ্য অসহায় দুঃখী জীবন থেকে মুক্ত হন। তার
মুখের হাসিটি আজ বলে দেয় কত খুশী তিনি।

ল্যাম্ব ফিস্টুলা প্রকল্পের কর্মীরা এইসব মায়েদের খুঁজে বের করে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে। ফিস্টুলা রোগীর একটি সার্জারি খরচ হয় সর্বনিম্ন ৩৫ হজার টাকা। সার্জারি করান একুশে পদক প্রাপ্ত প্রফেসর ডাক্তার সায়েবা আক্তার, প্রফেসর আনোয়ারা, ডাঃ ক্রিস্টিয়ানা এ্যাডোয়ার্ড, ডাঃ ফেলেসিটি ইউকে, ডাঃ বেয়া সুইজারল্যান্ড, ডাঃ হাফিজা ও ডাঃ কেয়া।

নিয়ম হচ্ছে, সন্দেহ জনক রোগীকে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা জেলা হাসপাতালে পাঠানো, সেখানে ফিস্টুলা কর্ণারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা নার্সরা দেখার পর যদি VVF/RVF patients  হয় তখন রেফার করেন ল্যাম্ব হাসপাতালে এরপর চুড়ান্ত পরীক্ষার পর দিনক্ষণ ঠিক হয় অপারেশনের।সুস্থ হওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা নিরিখে তাঁর পুনর্বাসনে সহয়তা দেয়া হয়।

এই প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
যোগাযোগ করা হলে এই প্রকল্পের ম্যানেজার মাহতাব লিটন জানান, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফিস্টুলা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। যথা সময়ে চিকিৎসায় ৬৮% রোগী ভালো হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ