পাশাপাশি, তবুও অচেনা

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সাজিদ রহমান :


আমরা দুইজন পাশাপাশি বসা। বলতে গেলে একদম গা ঘেষে। সে আমাকে দেখছে। আমিও দেখছি তাকে। এমন সময় তার কাছে একটা ফোন আসে। কার ফোন বুঝতে পারি না। একটা মেয়ের কন্ঠ শুনতে পাই।
মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, ‘সাজিদ কি আপনার সাথে আছে?
-‘না, সে আমার সাথে নেই’। সে উত্তর দিলো।
– ‘সাজিদ এলে জানাইয়েন। তাকে আমার খুব দরকার’। ওপাশ থেকে মেয়েটি বলে।
– আচ্ছা, জানাবো। বলে ফোন রাখে।
এবার আমি মাথা তুললাম। কেন সে এমন করলো, বোঝার চেষ্টা করি। তাকে ভালো ভাবে খেয়াল করি। তার মধ্যে কোন ভাবলেশ নাই। একদম নির্বিকার।
ভাবছি একটু ঝেড়ে কাশি। ওপথে গেলাম না।
শুধু মনে মনে বললাম, গর্দভ, সাজিদ তোর পাশে বসে আছে!!!
২।
পাবলিক বাসে যাচ্ছিলাম। সামনের দিকে কোন সিট খালি নেই। বাধ্য হয়ে একদম শেষের সারিতে বসতে হয়। বাসের শেষের সারিতে বসার একটা অন্যরকম মজা আছে। মাঝে মাঝে সেইরকম ঝাকুনি লাগে। তখন বাসে চড়ে পাহাড়ি রাস্তায় ঘোড়ায় চড়ার স্বাদ পাওয়া যায়। চোখ বন্ধ করলে মনে হয়, ঘোড়া ছুটে চলছে টগডগ…টগডগ… সূর তুলে।
৩।
পরের স্টপেজে বাস থামে। আমার পাশে এক লোক এসে বসে। তাঁর সাইজ মাশাআল্লাহ। আমিও কম যাইনা। ফলাফল, গা ঘেষে পাশাপাশি ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। কিছুক্ষণ পর পাশে বসা ভদ্রলোকের ফোনে একটা কল আসে। সেটার কথাই বলছিলাম এতক্ষণ।
লেখক : নির্বাহী প্রকৌশলী, নওগাঁ সড়ক বিভাগ, নওগাঁ।