বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

পিইসিতে ভুয়া পরীক্ষার্থী সিস্টেমের দুর্বলতারও নিরসন করতে হবে

আপডেট: November 26, 2019, 1:35 am

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অবৈধভাবে অংশ নেয়ায় নগরীর কয়েরদাড়া আরবান স্লাম আনন্দ স্কুল ও মালদা কলোনি আনন্দ স্কুলের ৬০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রোববার পিইসি পরীক্ষার শেষ দিনে গণিত পরীক্ষা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষার সময় ছিল। আরবান স্লাম আনন্দ স্কুল ও মালদা কলোনী আরবান স্লাম আনন্দ স্কুলের ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ জন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে নিজেরাই স্বীকার করেছে যে তারা টাকার বিনিময়ে আনন্দ স্কুলের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। ভুয়া শিক্ষার্থী ধরা পড়ার পরে তাদের স্কুলের শিক্ষকেরাও এক পর্যায়ে স্বীকার করেছেন যে, প্রকল্প চালু রাখতে ভুয়া পরীক্ষার্থী দেখানো হয়েছে।
এটা এক ভয়ঙ্কর ঘটনা যা সাধারণ উদ্বেগ দিয়ে প্রকাশ করা যাবে না। নৈতিকতার কতখানি অবক্ষয় হলে জাতির সামনে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। যে মুহূর্তে সরকার দুর্নীতির বিরদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেÑ সেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত করে মানুষ তৈরির প্রক্রিয়া চালিয়েছেন শিক্ষকরা। কোমলমতি শিশুদের গর্হিত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আর ব্যবহার করেছেন শিক্ষকগণ। যারা মানুষ তৈরি করেন, তারাই অমানুষ হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছেন। তা হলে শিশুদের ভবিষ্যত কী? সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা একটি বারও কেন চিন্তা করলেন যে, তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে ৬০ জন শিশুকে তারা নৈতিক অধঃপতনের পথ দেখিয়ে দিলেন। এই ঘটনা যদি ধরা না পড়তো তা হলে ওই ভুয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা এই শিক্ষই নিতো যে, এভাবেও অর্থ আয় করা যায়!
তবে এই ঘটনাকে শুধু অপরাধপ্রবণতার জায়গা থেকেই দেখলে চলবে নাÑ এর সাথে সরকারি সিস্টেমের দুর্বলতাগুলোকেও চিহ্নিত করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। সিস্টেম যদি মানুষকে নীতিহীন হতে প্ররোচিত করে সেটা খুবই ধ্বাংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বহিরাগত শিক্ষার্থী এনে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লিখিতভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন। অপরাধীর শাস্তি হবে এটা সকলেরই কাম্য। কিন্তু অপরাধ যদি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে হয় তা হলে একই সাথে সেই দুর্বলতাকেও কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নিতে হবে। সিস্টেম যদি একই ভাবে থেকে যায় তা হলে পুনর্বার অপরাধ সংগঠনের সুযোগ থেকে যায়। আনন্দ স্কুলের শিক্ষকের কথায় দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। শিক্ষকের মতে আনন্দ স্কুলে শিক্ষার্থী কম তাই ভূয়া পরীক্ষার্থীদের ওই স্কুলের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। শিক্ষক যদি সত্যি বলেন তাহলে বিষয়টি এমন যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ পরীক্ষার্থী না হলে শিক্ষকদের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ