পিকনিকের টাকা সংগ্রহের জন্য পাকশীতে রেলওয়ের ২৭ লাখ টাকার কাজ ভাগাভাগি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি



ঠিকাদারদের পিকনিকের টাকা সংগ্রহের জন্য ঈশ্বরদীর পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের দুটি কাজের প্রায় ২৭ লাখ টাকার কাজ ভাগাভাগি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রেলওয়ের ঠিকাদার সমিতির নামে সরকার দলীয় কিছু ঠিকাদাররা পাকশীতে বসে এই কাজ ভাগাভাগি করেন। পিকনিকের কথা বলে টাকা ভাগাভাগির বিরোধিতা করলে সিনিয়র ঠিকাদার ও আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে ঠিকাদার সমিতির নেতাদের বাকবিত-া ও কথা কাটাকাটি হয়, শেষ পর্যন্ত সেলিম দরপত্র দাখিল না করে ফিরে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশন সেডের টিন পরিবর্তনের জন্য সাড়ে আট লাখ টাকা এবং আলমডাঙার ১৮১ নং সেতুর রি-পেইন্টিং কাজের জন্য ১৯ লাখ টাকাসহ প্রায় ২৭ লাখ টাকার দুটি গ্রুপের দরপত্র দাখিল করার পূর্ব নির্ধারিত সময় ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ঠিকাদাররা জানান, পিকনিকের টাকা সংগ্রহের জন্য দরপত্র দাখিল করতে আসা প্রায় ৬০ জন ঠিকাদারদের পাকশী রেলওয়ে অফিসের সামনে ডেকে নিয়ে ‘সমঝোতা বৈঠকে’ বসেন পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হবিবুল ইসলাম হব্বুল, সহ-সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল, মোহাম্মদ রশীদুল্লাহ্সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদার। এসময় কয়েকজন ঠিকাদার কাজ দুটি কিনে নেওয়ার জন্য দর হাঁকেন এদের মধ্যে থেকে দুই জন বেশি দাম বলায় তাদের দুজনকে কাজ দেওয়া হয়। দরপত্র ক্রয় করা বাকি ঠিকাদারদের কিছু কিছু করে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জানান, ২টি কাজের মধ্যে প্রথম গ্রুপের পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনের ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজ মাত্র ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন ঠিকাদার মাসুদুর রহমান তরুণ এবং দ্বিতীয় গ্রুপের আলমডাঙার ১৮১ নং ব্রিজের ১৯ লাখ টাকার কাজ একইভাবে মাত্র ৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন আলমডাঙার আহসান এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী আহসান উল্লাহ। এর মধ্যে পিকনিকে ব্যায় হবে আলমডাঙা ব্রিজের রং করার কাজের টাকা।
ঠিকাদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম জানান, পিকনিকের টাকা জোগাড় করতে রেলের কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করার জন্য আমাকেও ডাকা হয় কিš‘ আমি তাদের কথা না শুনে দরপত্র দাখিল করতে চাইলে তারা আমাকে নিষেধ করে। এ নিয়ে ঠিকাদারদের দু’একজনের সাথে তাদের ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আমি দরপত্র দাখিল না করে বাড়ি ফিরে যাই।
পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, নতুন বছরের শুরুতে রেলওয়ের তালিকাভূক্ত ঠিকাদারদের পরিবার পরিজন নিয়ে বনভোজন করানোর উদ্দ্যেশ্যে আমরা সকলের মতামত নিয়েই কাজ দুটি ভাগাভাগি করেছি। পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ঠিকাদার হবিবুল ইসলাম হব্বুল টেন্ডারের কাজ ভাগাভাগির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী রোববার পাকশীতে ঠিকাদারদের এই পিকনিক অনুষ্ঠিত হবে। অন্য গ্রুপের টাকা যেসব ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় করেছিলেন তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।
রেলের পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রকৌশলী আরিফুল আলম জানান, এই দুটি কাজের বিপরিতে ১ শতাধিক ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করেন তবে দুটি গ্রুপে দরপত্র জমা পড়ে ৩টি করে মোট ৬ টা। কাজ ভাগাভাগির ঘটনাটি তার অফিসের বাইরে হয়েছে বলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।