বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

‘পিগলেট’ প্রাণি সৃষ্টি করলেন বিজ্ঞানিরা

আপডেট: December 12, 2019, 1:10 am

সোনার দেশ ডেস্ক


বিশ্বে প্রথমবারের মতো বানর-শূকরের সংমিশ্রণে নতুন প্রাণির জন্ম দিলেন বিজ্ঞানিরা। এই প্রাণির নাম দেয়া হয়েছে ‘পিগলেট’। বেইজিংয়ের স্টেম সেল এবং প্রজনন জীববিজ্ঞানের স্টেট ল্যাবরেটরিতে প্রজনন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন চিনের বিজ্ঞানিরা।
গবেষণাগারে বিজ্ঞানিরা জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে বানরের কোষগুলো মডিফায়েড করেছিলেন। এরপর মডিফায়েড কোষ থেকে ভ্রূণে স্টেম কোষগুলো সংগ্রহ করেন এবং পাঁচ দিন বয়সি শূকরের ভ্রূণে ইনজেকশনের মাধ্যমে বানরের কোষগুলো প্রবেশ করান। ৪ হাজারের বেশি শূকর ভ্রূণে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
যার ফলাফলস্বরূপ দশটি শূকর জন্মগ্রহণ করেছিল তবে এর মধ্যে দুটি সংকর ছিল: যাদের হৃৎপিণ্ড, যকৃত, প্লীহা, ফুসফুস এবং ত্বকের টিস্যুসহ আংশিকভাবে বানরের কোষ সমন্বিত ছিল। তবে কোষের অনুপাত কম ছিল; এক হাজার এর মধ্যে একটি এবং দশ হাজার এর মধ্যে একটি। পিগলেটগুলো স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করলেও আয়ু ছিল মাত্র সাতদিন।
এ পদ্ধতি জন্ম নেয়া দুটি সংকরসহ দশটি শূকর এক সপ্তাহের মধ্যে কেন মারা গেল, তার কারণ বের করা যায়নি। গবেষকদের ধারণা, সংকর প্রক্রিয়া নয় বরং আইভিএফ প্রক্রিয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। আইভিএফ শূকরের দেহে প্রায়ই কাজ করে না, যেমনটা মানুষ এবং অন্যান্য কিছু প্রাণির মধ্যে কাজ করে।
বেইজিংয়ের স্টেম সেল এবং প্রজনন জীববিজ্ঞানের স্টেট ল্যাবরেটরির গবেষক টাঙ্গ হাই বলেছেন, ‘বানর-শূকরের পূর্ণাঙ্গ সংকর জন্ম নেয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।’ এ কাজের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো প্রতিস্থাপনের জন্য প্রাণিদের মধ্যে মানব অঙ্গ তৈরি করা। তবে ফলাফল দেখায় যে এটি অর্জনে এখনো অনেক দীর্ঘ পথ রয়েছে, গবেষক দলটি জানিয়েছেন।
গবেষক টাঙ্গ হাই এবং তার দল এখন বানরের কোষের সমন্বয়ে আরো স্বাস্থ্যকর প্রাণি তৈরির চেষ্টা করছেন। যদি এটি সফল হয় তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে, সম্পূর্ণ প্রাইমেট কোষ দিয়ে শূকরের জন্ম দেয়া। অর্থাৎ এমন শূকর তৈরির চেষ্টা করা হবে যার একটি অঙ্গ সম্পূর্ণরূপে অন্য প্রাণির হবে।