‘পিপিপি মডেলে’ ২ লাখ ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি!

আপডেট: মে ২৫, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সারাদেশে দুই লাখ ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি তৈরির উদ্যোগে গতি এসেছে। উদ্যোগটি পুরোপুরি বেসরকারিভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে তা পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে করা যায় কিনা, সেজন্য সরকার থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায় থেকে ‘প্রস্তাবনার মডেল’ জমা দেওয়া হলে তা বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে বলে সায় মিলেছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ থেকে।
প্রসঙ্গত, দেশে বেসরকারিভাবে দুই লাখ ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি (সংযোগ) তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। এই কানেক্টিভিটি তৈরি করা গেলে দুই লাখ স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস, ইউডিসি (ডিজিটাল সেন্টার), পাঠাগারসহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনা খরচে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। ওই উদ্যোগটির পরিকল্পনা আইসিটি বিভাগে জমা দেওয়া হলে তা পিপিপি মডেলে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। আইসিটি বিভাগের ‘ইনফো সরকার-৩’ প্রকল্পের আওতায় দেশের এক হাজার ২শ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের আওতায় আনা, ৫৫৪টি মিনি বিপিও সেন্টার গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জানা গেছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হলে জেলায় একশ, উপজেলায় ৪০ এবং ইউনিয়নে ১ গিগাবাইট গতির ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে।
আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইসিটি বিভাগ থেকে আমাদের এই উদ্যোগটি পিপিপি মডেলে করা যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মত দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমাদের একটি মডেল তৈরি করে দিতে বলেছে। আমরা মডেল তৈরির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছি।’ ইমদাদুল হক জানান, শিগগিরই তারা একসঙ্গে বসে একটি মডেল তৈরি করে আইসিটি বিভাগে জমা দেবেন। তবে এই উদ্যোগের পেছনে সমালোচনাও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলছে, আইএসপিএবি নিজেদের ব্যবসা চাঙ্গা করতে এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন চায়। তারা কৈ-এর তেলে কৈ ভাজতে চায়। কারণ হিসেবে ওই সূত্র উল্লেখ করে, জেলা-উপজেলা হয়ে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট লাইন সরকার পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে নিয়ে আইএসপিএবি সারাদেশে ২ লাখ কানেক্টিভিটি তৈরি করতে চায়।
অন্যদিকে আএসপিএবি বলছে, অবকাঠামো যদি সরকার তৈরি করে দেয় তাহলে তারা এনটিটিএন (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক বা মাটির নিচ দিয়ে তৈরি ক্যাবল লাইন) প্রতিষ্ঠানগুলোকে চার্জ কেন দেবে? উল্লেখ্য, এনটিটিএন এই প্রকল্পে রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সরকারের তৈরি ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেবে এবং এ কারণে চার্জও দিতে হবে এনটিটিএনকে। আইএসপিএবির আপত্তি এখানেই। তাদের ভাষ্য, সরকারের তৈরি করে দেওয়া অবকাঠামোর ব্যবহারের জন্য কেন চার্জ দিতে হবে এনটিটিএনকে। এমনকি ওই ক্যাবলের রক্ষণাবেক্ষণও করবে এনটিটিএনগুলো। ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, সরকার ক্যাবল লাইন বসিয়ে দিলে তারাই বিনা খরচে ২ লাখ কানেক্টিভিটি তৈরি করে দেবে। এনটিটিএনকে এ কাজে যুক্ত করা হবে অনর্থক।
আইএসপিএবি বারবারই বলছে, এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন করা গেলে সারাদেশে একদামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব। এছাড়া ৫শ টাকায় এক এমবিপিএস (মেগাবিট পার সেকেন্ড) ইন্টারনেট বিক্রি করা সম্ভব হবে গ্রামাঞ্চলে।-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ