পুঠিয়ায় ধান-চাল ক্রয় বন্ধ || রোপা-আমন ধান ও চাল সংগ্রহ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি

আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

পুঠিয়া প্রতিনিধি


চলতি অর্থ বছরে রোপা-আমন ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজসে কিছু সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাবনা থেকে আনা চালের ট্রাক ফেরত দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ধান-চাল ক্রয় বন্ধ রয়েছে।
গতকাল বুধরার সকালে ঈশরদী থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এক ট্রাক (পাবনা-ট-১১-১০৫৩) চালক নাজিব উদ্দিন চাল গোডাউনে নিয়ে এসে নামানোর সময় উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু হাতে নাতে ধরে চালসহ ট্রাকটি খাদ্য গোডাউন থেকে বের করে দেন। অথচ এই চাল প্রকৃত মিলারদের থেকে কেনার কথা।
ভুক্তভোগী কৃষক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, লটারিতে নাম উঠার পর আমরা ধান নিয়ে উপজেলায় যাই। কিন্তু উপজেলায় খাদ্য অফিসে ধান নিয়ে যাওয়ার পর তারা, ধানে আর্দ্রতা কম আছে, ধানে চিটা আছে, কালার খারাপ অজুহাত দিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমদের ধান ফেরত দেয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে ৫ ও ৭ ডিসেম্বর ৬টি ইউনিয়নে এবং একটি পৌরসভায় লটারির মাধ্যমে রোপা-আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে পুঠিয়া পৌরসভায় ৪০ জন কৃষক, পুঠিয়া ইউনিয়নে ৯০ জন কৃষক, বানেশ্বর ইউনিয়নে ১২০ জন কৃষক, বেলপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১০০ জন কৃষক, ভালুকগাছী ইউনিয়নে ১১০ জন কৃষক, শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ৬০ জন কৃষক, জিউপাড়া ইউনিয়নে ১০৮ জন কৃষককে লটারীর ম্যাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১০ ডিসেম্বর থেকে কৃষকরা ধান দেয়া শুরু করে। এই অভিযান ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
উপজেলা খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা জালাল উদ্দিন জানান, মিলাররা চাল নিয়ে এসেছিলো কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান এসে সেই চাল ফেরত দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওলিউজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি তার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আজ থেকে ধান-চাল ক্রয় বন্ধ থাকবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু জানান, নিম্নমানের চালের খবর পেয়ে আমি গোডাউনে গিয়ে সেই ট্রাকের চাল ফেরত দিয়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ