পুঠিয়ায় পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রেমিকা আটক

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

পুঠিয়া প্রতিনিধি


রাজশাহীর পুঠিয়ায় পরকীয়ার কারণে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার অমৃতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিকাকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের অমৃতপাড়া গ্রামের মৃত আহসান আলীর ছেলে আমজাদ হোসেনকে (৩৫) গত বুধবার রাতে মোজাম্মেল হকের বাড়ির পার্শ্বে অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় পুকুরে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী উদ্ধার করে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আমজাদের বড় ভাই কাশেম জানান, আমি ভাটায় কাজ করি। বুধবার রাতে বাড়িতে ফিরে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়ি। এসময় গ্রামের লোকজন আমার বাড়িতে খবর দিলে টর্চ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইকে আমার আত্মীয় ও এলাকাবাসীরা একটি নসিমনে তুলছে। এরপর হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তারা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো জানান, একই গ্রামের মোজাম্মেলের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের (৩২) সঙ্গে আমজাদের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। গত বুধবার মরিয়ম তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মরিয়মের স্বামীসহ কয়েকজন মিলে আমজাদকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ইতোপূর্বে আমার ভাইকে হুমকি দেওয়ার কারণে পুঠিয়া থানায় জিডি করা হয়েছিল। আর আমার ভাই পুকুরে মাছ চাষের ব্যবসা করতো।
এ বিষয়ে প্রেমিকা মরিয়ম বেগম জানান, আমার সঙ্গে আমজাদের প্রায় ১৯ বছর থেকে সম্পর্ক। আমাদের ঘটনা আমার স্বামী জানতে পেরে আমাকে আমজাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করে। ইতোমধ্যে আমার স্বামী আমজাদকে ৪০ হাজার টাকা ধার দেয়। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। বাকি ২০ হাজার টাকার জন্য আমাকে দিয়ে বুধবার রাতে ফোন করে আমজাদকে ডাকায়। সেই রাতেই আমজাদ বাড়িতে আসলে আমার স্বামী মোজাম্মেলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আমার স্বামী আমজাদকে ধরে নিয়ে বহিরে চলে যায়। তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে আমার মায়ের কাছে জানতে পারি যে আমজাদকে খুন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খায়ের জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়ে লাশটির সুরতহাল করি। নিহতের ঘাড়ে, বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্রে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিব বলেন, এ ঘটনায় মোজাম্মেলের স্ত্রী মরিয়মকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল সকালে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাশেম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।