পুঠিয়ায় মৎস্যখাতে দুই হাজার বেকারের কর্মসংস্থান বছরে এক হাজার কোটি টাকা আয়

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২০, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


কয়েক বছর থেকেই মাছ চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেছে রাজশাহীর পুঠিয় উপজেলায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাজা মাছ সরবরাহে প্রথম স্থানে এখন রাজশাহী জেলা। আর পুঠিয়া উপজেলা তার অন্যতম। পুঠিয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে করে লক্ষ লক্ষ টাকার তাজা মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। এতে দেশের ফরমালিনমুক্ত মাছ পাচ্ছে বাইরের ক্রেতারা ও নতুন করে হচ্ছে বেকারদের কর্মসংস্থান।
রাজধানীতে উত্তরাঞ্চলের তাজা মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত নতুন পুকুরের পাশাপাশি বাড়ছে চাষিদের সংখ্যা। তথ্যমতে এই উপজেলায় সব মিলে প্রতিবছর ৩২ হাজার মে.টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকা। আর মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে প্রায় তিন হাজার বেকার যুবকের।
উপজেলা ভূমি ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের তালিকা অনুসারে উপজেলায় এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৭টি পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরগুলো থেকে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার মে.টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তথ্যমতে গত ১০ বছরে নতুন করে পুরো উপজেলায় নতুন করে প্রায় দু’হাজার হেক্টর জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। যা ভূমি ও মৎস্য অফিসের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্যে ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে বেশি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই পুকুরগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে সারা বছর মাছ চাষ করা হচ্ছে।
উপজেলার কয়েকজন মাছচাষির সাথে কথা হলে জানা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশে রাজশাহী অঞ্চলের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর মাছে ফরমালিন আতঙ্কের কারণে ক্রেতারা গত কয়েক বছর থেকে বড় আকারের তাজা মাছ কিনতে বেশি আগ্রহী হয়েছে। তাদের চাহিদা মোতাবেক প্রতিদিন শত শত ট্রাকে বিশেষ ব্যবস্থায় তাজা মাছ সরবরাহ করছেন চাষিরা। বর্তমানে বড় ও তাজা মাছ গুলো প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ৩শ’ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনাকালীন বাজার একটু কমেছে।
শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মাছ চাষী এরশাদ আলী জানান, গত কয়েক বছর থেকে বাজার ভালো হওয়ায় বর্তমানে এই এলাকায় অনেকেই এখন মাছ চাষে আগ্রহ হচ্ছেন। অনেক কৃষক তাদের নিচু জমিতে এখন পুকুর খনন করছেন। আবার কেউ তাদের জমি পুকুর খনন করতে আগ্রহী হয়ে মৎস্য চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে এই এলাকায় প্রতি বিঘা পুকুর বছরে ইজারা মূল্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর আধুনকি প্রযুক্তিতে প্রতিবছর এক বিঘা পুকুরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।
পুঠিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী জানান, আমরা আগ্রহী মাছচাষিদের সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহযোগিতা করছি। বর্তমানে মাছচাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আগ্রহে এগিয়ে আসছেন। এর মধ্যে নতুন করে পুকুর খনন করতে আমাদের কাছে ৩৮টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। চাষিদের সঠিক তদারকির কারণে সারা দেশে এই অঞ্চলের উৎপাদিত তাজা মাছের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। আর মাছ চাষ করে এলাকার চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক লাভবান হচ্ছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ