পুঠিয়ায় শিশু ধর্ষণের শিকার, সৎ বাবাসহ গ্রেফতার দুই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭, ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর পুঠিয়ায় দশ বছরের শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ঘটনায় সৎ বাবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতা করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়। শিশুটির মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান। গ্রেফতারকৃতরা হলো, পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া গ্রামের খবির উদ্দিন (৪০) ও ওহাব আলী (২৬)।
ওসি সায়েদুর রহমান জানান, উপজেলার ভাল্লুকগাছী ইউনিয়নের ধোকড়াকুল গ্রামের খবির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের খোকসা গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। খবির উদ্দিন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর খাদিজা বেগমের সাথে একই বাড়িতে থাকতো সৎ শিশু কন্যা।
এরই মধ্যে গত ২৭ আগস্ট খোকসা গ্রামের মৃত লোকমান আলীর ছেলে ওহাব আলী শিশুটিকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এ ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও চলে। কিন্তু শিশুটির অবস্থা ক্রমেই অবনতি হলে গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানে কাছে বিষয়টি জানতে পেরে পুুলিশ তদন্ত শুরু করে। গত ২৭ আগস্ট ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেন শিশুটি। একইসঙ্গে এর আগে সৎ বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয় বলে ওই শিশুটি পুলিশকে জানায়। এর পর খবির ও ওহাবকে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি বলেন, শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে থানা থেকে তার চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তিনি গতকাল দুপুর তিনটার দিকে লোকজন নিয়ে শিশুটির খোঁজ-খবর নিতে যান। এসময় শিশুটি হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠে। পরে শিশুটি তার উপর নির্যাতনের কথা জানায়। এক মাস আগে শিশুটির মা বাড়ির বাইরে থাকা অবস্থায় তার সৎ বাবা খবির উদ্দিন এবং গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে একা পেয়ে ওহাব আলী ধর্ষণ করে।
চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মেয়েটির কাছে তার ধর্ষণের শিকার হওয়ার বর্ণনা শুনে সাথে সাথে পুঠিয়া থানায় খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দুই ধর্ষককেই গ্রেফতার করে এবং শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ