পুঠিয়ায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করেই বসছে হাট

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২০, ৮:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বৃহস্পতিবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বসানো পুঠিয়ার ঝলমলিয়া হাট- সোনার দেশ

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। কিন্তু পুঠিয়ায় সঠিকভাবে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মানছে না এলাকার জনসাধারণ। এরমাঝে লকডাউন অমান্য করে পুঠিয়ার ঝলমলিয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে হাট বসিয়েছে ইজারাদার। এলাকা সূত্রে জানা যায়, খাজনার নামে চাঁদাবাজি করতেই ইজারাদার কৌশলে এ হাট বসিয়েছেন।
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঝলমলিয়া এলাকায় এ হাট বসে। বর্তমান করোনা প্রতিরোধে লোকসমাগম না করতে প্রশাসন সকল হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হাট ইজারাদার রীতিমত হাটের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্কুল এবং ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে হাট বসিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯এপ্রিল) হাটের লোকজন আসা শুরু হয় ভোর থেকে। আর ইজারাদারের লোকজন ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ-প্রশাসন হাটের কেনা-বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
ঝলমলিয়া হাটের সমশের আলী নামের একজন সবজি ব্যবসায়ী বলেন, আজ হাট বসানো হবে বলে ইজারদার গতকাল (৮ এপ্রিল বুধবার) রাতে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। ভোরে হাটে আসার পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় বেচাকেনা হবে স্কুল মাঠে। সে অনুযায়ী আমরা কাঁচা সবজি কিনে দোকান সাজিয়ে বসার পর প্রশাসন হাট ভেঙে দেয়। এতে সকল ব্যবসায়ীদের হাজার হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
শরিফুল নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইজারাদার কৌশলে হাট বসিয়েছে। তারা প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৬০ টাকা নিচ্ছে। আর বসে বিক্রির জন্য আরো অতিরিক্ত ৫০ টাকা হারে খাজনা আদায় করেছে। কিন্তু এখন হাট বন্ধ করা হয়েছে আমাদের লোকসান হল।
ঝলমলিয়া হাই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু বাক্কার বলেন, দেশে করোনা প্রতিরোধে প্রশাসন হাট-বাজার বন্ধ করে দিয়েছেন। ইউএনও স্যার আমাদের বলেছেন, হাটের দিন বাদে স্কুল মাঠে স্বল্প পরিসরে সবজি বাজার বসাবেন। কিন্তু এই অস্থায়ী বাজারে খাজনার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এদিকে হাট ইজারদার ইনসার আলী বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে ঝলমলিয়া হাটে অতিরিক্ত লোকজন কমাতে স্কুল মাঠে কেনা-বেচা করতে। যার কারণে আমরা এখানে হাট বসিয়েছি। পরে সকাল ৮টার সময় পুলিশ-প্রশাসন এসে আমাদের কেনা-বেচা বন্ধ করে দিয়েছে। হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারা এই কাজ করেছেন এমন কিছু আমার জানা নেই।
পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি জানান, ঝলমলিয়া হাটটি আমার পৌরসভার ভেতরে পড়ে। অথচ এই হাট খোলার বিষয়ে আমায় কিছু জানানো হয়ানি। জানালে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং হাটের দায়িত্বরত সকলের সঙ্গে কথা বলে দূরত্ব বজায় রেখে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিতাম। সবচেয়ে বড় বিষয় হাট কেন স্কুল মাঠে বসবে?
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, ইজারদার ভুল করে হাট বসিয়েছেন। তাদেরকে হাটের দিনে কেনা-বেচা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে দূরত্ব বজায় রেখে বাজারগুলো খোলা রাখতে বলা হয়েছে। সপ্তাহের ৫ দিন স্কুলমাঠে সবজি কেনা-বেচা করা যাবে। আর ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবেও বলে জানান তিনি।