পুঠিয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের ধান সংগ্রহের অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০২০, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুঠিয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের ধান সংগ্রহে অভিযোগ উঠেছে পুঠিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রকৃত ধান চাষিদের বঞ্চিত করে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার কৃষকরা। এতে এলাকার প্রকৃত ধান চাষিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্য সংগ্রহের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বোরো মৌসুমে প্রকৃত কৃষদের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ধান সংগ্রহের কাজ শুরু করে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে পুঠিয়া খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আমন ধান সংগ্রহের কাজ শুরু করে। পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিস ৩৬শ’ প্রকৃত ধান চাষিদের তালিকা তাদের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করে। এদের মধ্যে ইউনিয়ন ভিত্তিক আবেদনের মাধ্যমে লটারি করে ৬২৮ জন কৃষক বাছাই করা হয়। লটারিতে বাছাইকৃত কৃষকদের প্রত্যেকে ১টন করে ধান দেয়ার জন্য কার্ড দেয়া হয়। তবে লটারিতে যে সব কৃষকদের বাছাই করা হয় তাদের মধ্যে একটি অংশ প্রকৃত কৃষক নয়। এছাড়াও কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকেরা পুঠিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান দেয়ার জন্য গেলে তারা বিভিন্ন ধরনের বিপাকে পড়েছে। ধানে আর্দ্রতা, ধান মোটা ও ধানে চিটা থাকার কথা বলে প্রকৃত কৃষকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে এলাকার একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকরা বলেন, আমরা গোডাউনে ধান নিয়ে গেলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা, ধান মোটা ও ভিজা বলে আমাদের ফিরিয়ে দেয়। পরে ধান শুকিয়ে নিয়ে আসলেও তিনি আমাদের ধান নেননি। আমাদের চেয়ে নিম্নমানের ধান গোডাউনের চিহ্নিত ব্যবসায়ীরা সরবরাহ করছেন কিন্তু তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সূত্রমতে, পুঠিয়া খাদ্যগুদামে নির্দ্ধারিত ডিলার ও তাদের সহযোগীরা কৃষকদের কার্ড ক্রয় করে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে প্রতি টন ধানের জন্য ৭শ’ থেকে ১হাজার টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের ধান গুদামজাত করছে। গত বছর ৩০ ডিসেম্বর এক ব্যবসায়ী ৫০ বস্তায় আড়াই টন নিম্নমানের ধান গুদামজাত করার সময় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তা আটক করেন। পরে আটককৃত ধান জব্দ করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়। এ বিষয়ে পুঠিয়া খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন জানান, আমি লটারির মাধ্যমে তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছি। তালিকার বাইরে কেউ গুদামে ধান ঢুকাতে পারছে না। যারা ভাল মানের ধান নিয়ে আসছে তাদের ধান নেয়া হচ্ছে। তবে নিম্ন মানের ধান ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮৫ টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিউজ্জামান জানান, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য লটারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ভালো মানের ধান যাচাই-বাছাই করে ক্রয় করছি। কৃষক বাদে কেউ ধান গুদামে দিতে পারবে না।