পুঠিয়ায় স্কুলে শিক্ষার্থী নির্যাতন || শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৭, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

পুঠিয়া উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে নূরজাহান আক্তার মিনু নামে এক শিক্ষক পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, রাজশাহীর শিশু আদালত তার জামিন বাতিল করে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এটা খুবই ভালো একটা কাজ হয়েছে। কারণ সেই শিক্ষক জামিন নিয়ে আবার তার কর্মস্থল স্কুলে যেতেন। আর সেই স্কুলে নির্যাতিত ছাত্রীটিও যেতেন। তাকে দেখলে তো শিশু শিক্ষার্থী আতঙ্কে থাকার কথা। তাই যেখানে নৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। সেখানে এই শিক্ষক এধরণের আচারণ করেছে। এটা একজন শিক্ষক জন্য সমাজের কাছে লজ্জ্বার বিষয়। শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সর্ম্পক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ। কিংবা আস্থার প্রতীক। শারীরিক শাস্তি প্রদান সমাধান না। আর শারীরিক শাস্তি তো নৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। সেখানে স্কুলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকে আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যান। তাই তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইন প্রয়োগ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি প্রদান করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। আর এই ভয় থেকে তারা একসময় বিদ্রোহী হয়ে উঠে। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব ও ধৈর্য্য নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় শিক্ষককে। একজন শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় শিক্ষকের সাথে কাটান। জীবনের একটি বড় অংশ কেটে যায় শিক্ষকের সাথে। তাই উভয়ে ইতিবাচক সর্ম্পক রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জীবনে ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা, জীবন গঠনে শ্রেণি কক্ষে এসে একজন শিক্ষকের কাছে জানতে পারেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা তার ভেতরের শক্তিকে যেন একজন শিক্ষকের কাছে প্রকাশ করতে পারে। আর সে বর্হিপ্রকাশ করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সেই নিশ্চয়তা ও  পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে শিক্ষককে।
তবে পুঠিয়ায় নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর বাবা জহরলাল আলীর অভিযোগ-‘একই গ্রামে বাড়ি হওয়ায় ওই শিক্ষকের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শিশুশিক্ষার্থী যুথিকে বেদম মারধর করা হয়েছে। এতে সে আহত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় যুথিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ এটা একজন অভিভাবকের মতো শিক্ষকের কাছে সমাজ প্রত্যাশা করে না। তাও আবার পারিবারিক জের ধরে ওই শিক্ষক তার সন্তানতুল্য শিশুশিক্ষার্থী যুথিকে এভাবে শাস্তি দিয়েছেন। যেটা একজন শিক্ষকের কাছে কখনোই কাম্য নয়। কারণ ওই শিশুটির কোন অপরাধ নেই। সে শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানে ছুটে আসেন। আর সেখানে এসে তার ও শিক্ষকের পারিবারিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সেটা সমাজের চোখে কখনো ভালো দেখায় না।
কখনো দেখা যায় ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক কোনো কারণে মনটা হয়তো খুব বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। তাই বলে অন্য কারও ওপর সেই রাগ ঝাড়া হয়। এই আচরণ করা একেবারেই ঠিক হয়নি। তাই এই ধরনের সমস্যার মধ্য থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে শিক্ষকসহ সবাইকে। এটা কোনো স্বাভাবিক মানুষের আচরণ হতে পারে না। আর এ ধরনের আচরণ থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ