পুঠিয়ায় ২৭ মণের ‘বুলেটে’র দাম ১০ লাখ টাকা

আপডেট: জুলাই ২০, ২০২০, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বুলেটের পরিচর্যায় এক নারী সোনার দেশ

বৃহৎ আকৃতির এক ষাঁড় ‘বুলেটের’ সন্ধান পাওয়া গেছে পুঠিয়ার ফুলবাড়ি গ্রামের আসলাম আলী সরকারের খামারে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী আর চঞ্চল প্রকৃতির কালো ষাঁড়টিকে তার মালিকের পরিবার আদর করে ‘বুলেট’ নামে ডাকেন। যার বর্তমান ওজন ২৭ মণ। আর এই কোরবানির ইদে বুলেটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। ক্ষুদ্র খামারি আসলাম উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে মৃত কাশেম আলী সরকারের ছেলে।
আসলাম আলী বলেন, আমি কৃষি কাজ করি। এর পাশাপাশি গত ৬ বছর আগে বুলেটের মাকে পাশের ধননঞ্জয়পাড়া গ্রাম থেকে কিনে গরু পোষা শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার খামারে তিনটি গাভিসহ ৭টি বড় গরু ও দু’টি বাচ্চা গরু রয়েছে। ফ্রিজিয়াম জাতের এই ষাঁড় ছোট থেকে খুবই ছুটাছুটি করতে পছন্দ করতো। তাই বাড়ির সকলে মিলে তার নাম রাখে ’বুলেট’। ’বুলেটের’ বয়স এখন তিন বছর ৪ মাস। সে লম্বায় প্রায় ৮ ফুট ও উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। তার বর্তমান ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ মণ। তিনি বলেন, আমরা ’বুলেট’কে মোটাতাজা করতে কোনো প্রকার ক্ষতিকারক হরমোন ইনজেকশন বা রাসায়নিক কোনো কিছু করিনি। বরং নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক ভাবে সে বেড়ে উঠেছে। বুলেটের খাদ্য তালিকায় খড় ও সবুজ ঘাস ছাড়াও তার জন্য প্রতিদিন বরাদ্দ রয়েছে ১৫ কেজি দানা খাবার। এতে করে তার পিছনে গত ৮ ম্সা থেকে প্রতিদিন খরচ হয় ৯শ’ টাকা। এই ইদে বুলেটকে বিক্রি করতে তার দাম হাঁকছি ১০ লাখ টাকা।
প্রতিবেশী জামাল মাস্টার বলেন, আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত রাজশাহী জেলার মধ্যে ’বুলেট’ সবচেয়ে বড় ও বেশি ওজনের গরু। তাদের ছোট এই খামারে অনেক আদর-যত্নে ষাড়টি লালন পালন করছেন। প্রতিদিন বুলেটকে দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন আসছেন। আবার অনেকেই কেনার জন্য দাম করতে আসছেন। তবে সারা দেশে করোনার কারণে ’বুলেট’কে কোনো কোরবানির হাটে তোলা হবে না। বাড়ি থেকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত ওই খামারি আসলাম আলী।
পুঠিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ফুলবাড়ী গ্রামের গরুটি ফ্রিজিয়াম জাতের গরু। গরুটিকে সম্পূর্ণ দেশিয় খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। এই জাতের গরু অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশের খামারিরা পালন করে আসছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ