পুঠিয়া পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২, ১১:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


পুঠিয়ায় পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খানের বিরুদ্ধে আরো এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে থানা পুলিশ ভুক্তভোগির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে মেয়র আল মামুন পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগি ওই নারী (২৪) পুঠিয়া সদর এলাকার একজন কাঠ ব্যবসায়ীর মেয়ে। অপরদিকে মেয়র আল মামনু গন্ডগোহালী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মেয়র ওই নারীর সাথে জোরপূর্বক একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ওই নারী বাদী হয়ে রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে থানায় ধর্ষণের একটি অভিযোগ দেন। আর সোমবার সকালে অভিযোগটি মামলাভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগি ওই নারী বলেন, গত এক বছর আগে পৌরসভায় একটি চাকরির জন্য মেয়রের নিকট গিয়েছিলাম। এরপর তিনি বিভিন্ন প্রলোভনে নিয়মিত ধর্ষণ করত। এক পর্যায়ে তার এই অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি আমাকে বিয়ের প্রলোভনে আরো কয়েকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি মেয়র আর আমাকে চাকরি দিবে না এবং বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয়। বিষয়টি প্রতিবাদ করায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যার কারণে মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ওই নারী আরো বলেন, মেয়র একজন চরিত্রহীন ব্যক্তি। তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্ন প্রলোভনে নিয়মিত বিভিন্ন নারীদের সাথে অসামাজিক কাজ করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আগেও থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার রাতে একজন নারী বাদী হয়ে থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেন। সোমবার সকালে মামলাভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর মেয়রকে আটকের চেষ্টা চলছে। তবে মেয়র পলাতক রয়েছে। ওসি বলেন, ভুক্তভোগি ওই নারীর স্বাস্থ্য পরিক্ষা করতে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের শুরুতে দুর্গাপুর উপজেলার একজন হাসপাতালের সেবিকাকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটায় ভুক্তভোগি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। পরে ওই সেবিকা সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছর ১১ এপ্রিল মেয়রের লোকজন তাকে ব্যক্তিগত অফিসে তুলে এনে নির্যাতন করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই সেবিকাকে মেয়রের চেম্বার থেকে উদ্ধার করে। পরে ওই রাতে ভুক্তভোগি বাদী হয়ে মেয়রকে আসামী করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩ তারিখ ১১-০৪-২০২১ ।