পুতিনকে নিয়ে সতর্ক থাকুন: ট্রাম্পকে টেরিজা

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ফিলাডেলফিয়ায় রিপাবলিকানদের উদ্দেশে এক ভাষণে মে বলেন, “পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তবে সতর্ক থাকুন। এটাই আমার পরামর্শ।”
স্নায়ুযুদ্ধযুগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মে নিজ নিজ অবস্থানে শক্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যকে ক্রেমলিনের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং এ নীতি ব্যর্থ হলে পশ্চিমাদের ওপর এর প্রভাব পড়ার ব্যাপারেও সতর্ক করে দেন।
তিনি বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ অবসানে দেশে দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ধারা অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে বৈদেশিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করেছে চীন এবং রাশিয়া। “রাশিয়ার কথা বলতে গেলে বলতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের দৃষ্টান্ত মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি প্রতিপক্ষ মিখাইল গর্বাচভের সঙ্গে আলোচনার সময় একটি কথা মেনে চলতেন- আর তা হচ্ছে, ‘বিশ্বাস কর কিন্তু যাচাই করে নাও”।
মে আরও বলেন, “রশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের সংঘাত বাধার মত অনিবার্য কোনওকিছু নেই। আবার স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার মত অবশ্যম্ভাবী কোনও পরিস্থিতিও নেই। কিন্তু আমাদেরকে শক্ত অবস্থানে থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।” এরপরপরই মে তার এবং ট্রাম্পের পূর্বসূরির কিছু নীতির কথা তুলে ধরে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অতীতের সেই ব্যর্থ নীতিগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়।
তিনি বলেন, “বিশ্বকে নিজেদের ভাবমূর্তির আলোকে পুনর্গঠন করতে গিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যর্থ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য আর ফিরে যেতে পারে না।”
ইরাক কিংবা আফগানিস্তান যুদ্ধের মত আর অন্য কোনও সার্বভৌম দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের সেই পুরোনো নীতি ফের না নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন মে।
বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সেইসব দিন এখন শেষ। তবে বাস্তবিক কোনও হুমকি দেখা দিলে তা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের হাত গুটিয়ে  বসে থাকা উচিত হবে না।
“নতুন এ যুগের জন্য দুদেশের বিশেষ সম্পর্ক নতুন কেরে গড়ে তুলে একসঙ্গে আবার বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে হবে”, বলেন মে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে মে এ বক্তব্য দেন। গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের অভিষেকের পর মে ই প্রথম কোনও বিশ্ব নেতা যিনি হোয়াইট হাউজে যাচ্ছেন।
ওভাল অফিসের বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে মে’র একটি ‘সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ কাজের সম্পর্কের’ ভিত গড়ে উঠবে এবং ইইউ পরবর্তী যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হতে দু’নেতাই রাজি হবেন বলে আশা করছে যুক্তরাজ্য।- বিডিনিউজ