পুতিন চায় তালিবানের সাথে সম্পর্ক জঙ্গিরাও কি দুই মেরুতে ভাগ হবে?

আপডেট: জুলাই ১, ২০২২, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব এই মুহূর্তে দুইভাবে বিপর্যস্থ অবস্থায় আছে। এর একটি হল- করোনাভাইরাস সংক্রমণ, যা অবসান হতে হতে হল না। আবারো নতুন করে সংক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। করোনার এই প্রবণতা বিশ্বের ১২১ টি দেশেই বাড়-বাড়ন্ত। স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে দুর্ভবনার সূত্রপাত হয়েছে। অপরটি হল- রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ। এই যুদ্ধ আবারো পৃথিবীকে স্পষ্ট ভাগ করে দিয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়েই অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। এই মন্দার প্রভাব থেকে উন্নত- অনুন্নত কোনো দেশই মুক্ত নয়। এটা রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের ফল। এই যুদ্ধকে ছোটখাটো ব্যাপার মনে করা হচ্ছে না। বরং এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় কী না- তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠারও কমতি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আধিপত্য হুমকির মুখে পড়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তারা রাশিয়াকে যে কোনোভাবে রুখে দেয়া কিংবা প্রতিরোধ করার জন্য আরো ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ইউক্রেনকে যুদ্ধাস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াটা অসম্ভব কিছু নয়।
আরো একটি সমস্যা বিশ্বকে ভর করতে চলেছে কিংবা ইতোমধ্যেই করেছে। যদিও সমস্যাটা আগেও ছিল কিন্তু সেটা অন্য ধরনে ছিল। কিন্তু এবার যে ধরনে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে সেটা বিশ্বের জন্য মোটেও সুখকর হবে না। ২৮ জুন তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমানের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও রাশিয়া তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই দেখে। ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় রাশিয়ার এই প্রচেষ্টার কূটনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায়না। কেননা তাজাকিস্তানে রাশিয়ার সেনাঘাটি রয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে তাজিকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তান চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্য থেকেই এসেেেছ। তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে পুতিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আমরা সব কিছু করে যাচ্ছি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যেমনটি আগেই বলা হয়েছে,আফগানিস্তানের সমস্ত জাতিগত গোষ্ঠীকে দেশ পরিচালনায় অবশ্যই অংশ নিতে হবে। এর ফলে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে এবং শক্তি অর্জন করবে।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন বলয়ের দেশগুলো পাকিস্তান, সিরিয়া, ইরাক ইত্যাদি দেশের জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে পারে। এ ধরনের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। বরাবরই হয়ে আসছে। ব্যতিক্রম এই যে, রাশিয়াও এই জঙ্গিগোষ্ঠিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী পক্ষও একই কৌশল গ্রহণ করতে পারে। এটাও একটি বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। বিধ্বস্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আবারো আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে জঙ্গিবাদ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সেটা হলে নিঃসন্দেহে বিশ্বের জন্য জঙ্গি-সংগঠনগুলো বিষফোড়া হিসেবে দেখা দিবে। যা কারোরই কাম্য নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ