পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্ত্রী ও মেয়েদের কুয়োয় ফেললেন ব্যক্তি, মৃত্যু একজনের

আপডেট: জুন ৭, ২০২১, ১:২৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একবিংশ শতকে বাস করছে মানুষ। সমাজ এখন অনেক আধুনিক। কিন্তু বাইরে থেকে যতই আধুনিকতার মোড়কের চাকচিক্য থাক ভিতরে এখনও ঘুন ধরে রয়েছে। তাই এখনও পুত্রসন্তান না হলে অত্যাচারের শিকার হতে হয় নারীকে।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুরে। পরপর কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে স্ত্রীকে কুয়োয় ফেলে দিলেন এক ব্যক্তি। স্ত্রীয়ের সঙ্গে দুই মেয়েকেও কুয়োয় ফেলে দেন তিনি। রবিবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত এলাকাবাসীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ব্য়ক্তি রবিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। বাড়ি ফেরার সময় একটি কুয়োর (বিষষ) কাছে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। বাইক স্ট্যান্ড করে নিজের স্ত্রী ও মেয়েদের টানতে টানতে কুয়োর ধারে নিয়ে যান তিনি। তারপর তাঁদের ধাক্কা মেরে কুয়োর মধ্যে ফেলে দেন। কুকর্ম করেই ওই জায়গা থেকে সরে পড়েন ওই ব্যক্তি। নারী সাহায্যের আশায় চিৎকার করতে থাকেন। এরপর কোনওক্রমে তিনি কুয়োর গা বেয়ে নিজের ৩ মাসের মেয়েকে নিয়ে উপরে উঠে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু বড় মেয়ে কুয়োর মধ্যেই ডুবে যায়।
কুয়ো থেকে উঠে থানায় যান ওই নারী। স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পুলিশে এস আই রাজেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি একাধিকবার তাঁর স্ত্রী ও মেয়েদের খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন। নারীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু এখনও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি পলাতক। জানা গিয়েছে, স্ত্রীকে তিনি বারবার ‘পুত্রসন্তানের জন্ম দিতে অক্ষম’ এ জাতীয় কথা শোনাতেন। কিন্তু সত্যিই যে পুত্রসন্তান না হওয়া কারণে তাঁকে এমন ঘটনার সাক্ষী থাকতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবেননি ওই নারী। তাঁর বড় মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কুয়োর জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর।
তথ্যসূত্র: শড়ষশধঃধ২৪ী৭