পুনঃবাঁধন

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২৩, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

সালাম হাসেমী:


বিকেল বেলা। বসন্তের মধুময় ফাগুনে প্রতি সপ্তাহে ঘটে যাওয়া নিয়ত ঘটনাায় সাথীর মন উৎফুল্ল হয়ে উঠলে সে অডিও নিয়ে ছাদে চলে গেল। অডিও চালু করে দিয়ে গান শ্নুছে আর ছাদ বাগান ঘুরে ঘুরে দেখছে। এ ফাগুনের মধুময় ক্ষণে ছাদ বাগানের প্রতিটি ফুল গাছে ফুল ফুটেছে। গাছের প্রতিটি শাখা ফুলে ফুলে ভরে আছে। সাথী তার হাত দিয়ে ফুলগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আর মনের আনন্দে গুনগুন করে গান গাইছে। আর ছাদ বাগানের ফুলগুলোকে বলছে ‘তোমাদের বুকে যেমন ভ্রমর এসে তোমাদের বুকে পরশ বুলিয়ে তোমাদের আদর করছে, আমার ভ্রমরও আজ আসবে।’ ছাদ বাগান অনেকক্ষণ ঘুরে দেখার পরে সে বাহিরের প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখতে পেলো যে বাহিরের প্রকৃতিতেও তার মনের মত আনন্দের ফোয়ারা বয়ে চলেছে। গাছে গাছে নতুন কচি কচি পাতা গজিয়েছে। ফুল ফুটেছে। পাখি গান গাইছে। প্রকৃতির এমন মধুর ক্ষণে তার মন মানছে না। তার মনের ইচ্ছে এই মুধুক্ষণে যদি তার ভ্রমরও তার পাশে থাকতো কিনা মজা হতো ! এমনি মধুময় স্বপ্নে যখন বিভোর ঠিক তখন বাহির গেটে এসে কুরিয়ার সার্ভিসের পিয়ন এসে হাক দিলো সাথী আক্তার কে ? তার চিঠি আছ্।ে এ কথা শুনে তার রঙিন স্বপ্নে কল্পনায় ছেদ পড়ল। সাথী নিচের গেটের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হলো যে ঠিকই তার নামে চিঠি এসেছে। সে দ্রুত নিচে নেমে এসে পিয়নের হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে তার শয়ন কক্ষে এসে চিঠিটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে চিঠিটি দেখছে আর মনে মনে ভাবছে আজ তো অভির চিঠি আসার কথা নয় আজ তার বাড়িতে আসার কথা। কি এমন কিছু ঘটল যে আজ বাড়িতে না এসে চিঠি পাঠালো পড়ে দেখি তো। এ কথা বলে সে চিঠিটি খুলে পড়তে লাগলো। চিঠি পড়ছে আর ধীরে ধীরে তার শরীর অবশ হয়ে আসছে। আর ধীরে ধীরে তার শরীর নেতিয়ে খাটের ওপর পড়ে যাচ্ছে। পত্র পাঠ শেষ হলে সে যখন বুঝতে পারলো যে তার স্বামী অভি তাকে তালাক ্প্রদান করেছে এবং এটা সেই তালাক নামা। তখন সে আস্তে করে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল। লুটিয়ে পড়ার সাথে সাথে তার ছোট বোন ইলা তার কাছে ছুটে এসে তার অবস্থা খারাপ দেখে প্রথমে তার চোখে ও মুখে পানির ঝাপটা দিল। তাতে কিছু না হওয়ায় তার মাথায় পানি দিল। পানি পানি দিতে দিতে যখন তার জ্ঞান ফিরে এসে সুস্থ হয়ে বিছানর ওপর ্উঠে বসল তখন তার ছোট বোন ইলা তাকে তার বেহুশ হয়ে যাওয়ার কারণ জিঞ্জেস করলে সে তার হাতে তালাক নামাটা দিয়ে বলল দেখো তোমার দুলাভাই কি সর্বনাশ করেছে। কিছক্ষণ বিছানা বসে থেকে সে অনেকটা সুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে আবার ছাদে গিলো অডিও ক্যাসেটটি আনতে। ছাদে গিয়ে দেখলো তার ছাদ বাগানের ফুল গাছগুলোতে ফুল গুলো কেমন মলিন হয়ে গেছ্।ে তাকে কোন ভোমর ও প্রজাপতি ন্ইে। কেমন সমস্ত বাগানটি ম্লান হয়ে গেছে। চার দিকের প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া নেই। সব কিছু কেমন মরা মরা হয়ে গেছে। প্রকৃতির মাঝে কেমন বেদনার হাহাকার হাহাাকার ভাব। এভাবে দাঁড়িয়ে প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন সন্ধ্যা নেমে রাত হয়ে গেছে সে তা টের পায়নি। তার কাছে মনে হলো প্রকৃতিতে যেমন তার সৌন্দর্য বিলিন হয়ে রাত নেমে এসেছে তেমন তার মনেও অলিভ হারিয়ে গিয়ে রাত নেমে এসেছে। সে তার ভাঙা আহত মন নিয়ে রাতের অন্ধকারে অতি ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে। নিচে নেমে সে তার শয়ন কক্ষে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। বিছানায় শুয়ে তার ঘুম আসছে না। কেবল বিছানার এপাশ ওপাশ করছে। অনেক রাতে তার এলবাম এলে তা হতে অলিভের ছবিগুলো বের কর দেখছে। নিঃশব্দে কাঁদছে। টপ টপ করে চোখের তপ্ত অশ্রু অভির ছবির ওপর পড়ছে। ওড়নার আঁচল দিয়ে বার বার তার দুচোখ মুচছে কিন্তু তার চোখের জল শেষ হচ্ছে না। কিন্তু অভি কোন দোষে কোন কারণে এমন দুঃখজনক কাজ করলো তা সে বুঝতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে ভোর হয়ে গেল্। সকালে নয়টার সময় সাথী অভিকে ফোন করলে অভি ফোন রিসিভ করলো না। এভাবে কয়েকবার করার পরে এক সময় ফোন রিসিভ করে বলল ‘তোমার তো আমার কাছে ফোন করার কোন অধিকার নেই। কেন ফোন করেছো ? ’ সাথী স্বাভাবিক কন্ঠে অভিকে বলল, ‘ তোমার সাথে আমার কোন কথা কাটা কাটির দারকার নেই । আমি তোমার কাছে শুধু এতটুকুই জানতে চাচ্ছি তুমি কোন দোষে বা কারনে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে। আমি তার কোন কারণ জানি না। দয়া করে জানিয়ে দিলে ধন্য হতাম।’ ওপাশ হতে গম্ভীর স্বরে অভি বলল, ‘ সম্পর্ক ছেদের কারণ তো তুম্ইি ঘটিয়েছো। জেনে যদি না জানার ভান করো তবে বলছি মনোযোগ দিয়ে শোনো। আমি বিশেষ সুত্রে জানতে পারলাম যে তোমার সাথে পর পুরুষের সম্পর্ক আছে। আমি সুদূর কুড়ি গ্রামে চাকরি করি। তোমাকে দেখে শুনে রাখতে পারি না বলে ফরিদপুরে তোমার বাবার বাড়ি থেকে তুমি যা ইচ্ছে করে বেড়াও। আর কোন দিন আমার কাছে ফোন করবে না। আমি তোমার মত উৎশৃংখল মহিলার ফোন রিসিভ করতে রাজি নই।’ সাথী কাঁদতে কাঁদতে বলল ,‘ তুমি যার কাছ থেকে যা শুনেছো তা সত্য নয়। আমাদের কোন শত্রু পক্ষ আমাদের সংসারকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য তোমার কাছে মিথ্যা রটিয়েছ্।ে প্রমাণ না করে তুমি তা বিশ^াস করেছো এ তোমার বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। তোমাকে আর কিছু বলতে হবে না। রাখি।’ এভাবে এক বছর কেটে গেলে হঠাৎ এক দিন অভি সাথীর কাছে ফোন করে বলল যে সে তার কন্যা ‘অমি’ কে দেখতে চায়। সাথী ফোনটা রিসিভ করে শুধু বলল এসে দেখে গেলে তার কোন আপত্তি নাই। অভি তার কন্যাকে দেখার জন্য ড্রোয়িং রুমে বসলে সাথী কন্যাকে সঙ্গে করে নিয়ে এলো এবং তার সাথে কিছু চা নাস্তা এনে অভির সামনে দিয়ে চলে গেল্। মেয়ে বাবাকে এতদিন পরে পেয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। অভি মেয়েকে নানা ভাবে বুঝাতে চেষ্টা করল কিন্তু মেয়ে বুঝতে চাইল না। শেষে বলল, ‘চলো আম্মাু আমরা শিশু মেলায় যাই।’ মেয়ে বলল যে সে তার মাকে ছাড়া মেলায় যাবে না। অভি ওই দিনের মত মেযেকে অনেক খাবার, টাকা ও পোশাক দিয়ে চলে গেল। এক বছর পর অভি না জানিয়ে সাথীদের বাড়ি চলে এলো। এসে তার মেয়ে অমির সাথে কতা বার্তা বলে এক সময় অভি তার মেয়েকে তার মাকে ডাকতে বললে অমি তার মাকে ডেকে এনে তার বাবা সামনে বসালো। অভি সাথীর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সাথী ভুলটা আমারই হয়েছে। আমি লোক মুখে শুনলাম যে কান নিয়ে গেছে চিলে তা শুনে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলাম। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম না যে প্রকৃত পক্ষে আমাার সাথে কান আছে কিনা! পরিশেষে এখন বুঝলাম এ ছিল তোমার শত্রু পক্ষের চক্রাান্ত। তুমি তোমার বাবার বাড়ি উঠার আগে যে বাড়ি ভাড়া ছিলেন তাদের সাথে ঝগড়া করে চলে আসলে তোমার বাড়িওয়ালা চক্রান্ত করে তোমার চরিত্র সম্পর্কে আমার কান ভারি করে দিলে আমার মাথা গরম হয়ে গেলে আমি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছি। এ জন্য তুমি হয়তো খুব দুঃখ পেয়েছো সে জন্য আমি দুঃখিত । চলো আমি তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছ্।ি’ অভি তার অফিসের ড্রাইভারকে মোবাইল করলে সে মাইকো এসে সাথীদের বাড়ির সামনে থামালো। কাজী ও বিয়ের সামগ্রী নিয়ে সাথীদের বাড়ি এনে হাজির হলো। বিয়ে পড়িয়ে অভি সাথী ও তার মেয়ে অমিতে নিয়ে মাইকোতে উঠল। সাথী অভির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে তার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল।