পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় জবই বিলের আমন ফসল বিনষ্ট

আপডেট: September 20, 2020, 12:12 am

সাপাহার প্রতিনিধি:


মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা বন্যা এবং পানিউন্নয়ন বোর্ডের নব নির্মিত স্লুইস গেটে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে প্রচুর পরিমাণে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিল এলাকার কয়েক হাজার বিঘা আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক অর্থ ব্যয় করে আবাদ করা ফসলি জমির আবাদ বিনষ্ট হওয়ায় ওই এলাকার কৃষক কুল এখন দারুণ হতাশায় ভুগছে।
বিল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা সীমান্ত ঘেঁষা পুর্নভবা নদীর পানি এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সে সাথে জবই বিলের পানিও ফুলে ফেঁপে ওঠে অসংখ্য আমন আবাদের মাঠকে একাকার করে ফেলেছে। এদিকে এবছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জবই বিল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে মেইন পয়েন্টে ১২০ ফুট প্রশস্ত জায়গায় ১৪ কপাট বিশিষ্ট একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করে তার সবকটি দরজা বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। যার কারণে বিলের পানি নদীতে নামতে না পেরে বিল এলাকার ওই ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সাধারণ কৃষকগণ মনে করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে প্রকৃতিগত কারণ সহ বিভিন্ন করাণে ওই এলাকার প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির আমন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে সমুদয় ফসল নষ্ট হয়েছে। কয়েক দিন আগে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও জানাজানি হওয়ার পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিদের্শক্রমে গত কয়েক দিন ধরে মেনুয়াল পদ্ধতিতে স্লুইস গেটের কপাটগুলি খোলার জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ফলে বিলের পানি কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। কপাটগুলি সম্পূর্ণ খোলা ও নদীর পানিতে টান ধরলেই বিল পাড়ের অনেক আবাদি জমি জেগে উঠবে বলে কৃষককুল ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণ মনে করছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত আবাদি জমিগুলিতে শতভাগ আমন ফসল না পেলেও সেখানে তারা আগাম রবি ফসল বুনতে পারবেন বলেও কৃষি বিভাগ ধারণা করছেন।
এব্যাপারে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ডি সাখাওয়াত হোসেন এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন যে, সম্প্রতি কিছু দিন পূর্বে সমাপ্ত হওয়া ওই স্লুইস গেটের দরজা তৈরি থেকেই বন্ধ ছিল। মূলত এই স্লুইস গেটটি নির্মিত হয়েছে জবই বিলে প্রচুর পরিমাণে পানি ও মাছ আটকানোর জন্য। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতে এতো পরিমাণ পানি বেড়ে যাবে যা ধারণা করা যায়নি। স্লুইস গেটে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হলেই সহজেই এই সমস্যা সমাধান করা যাবে। বর্তমানে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় মেনুয়াল পদ্ধতিতে কপাটগুলি খুলতে একটু বেশি সময় লেগেছে। বর্তমানে ওই গেটের সকল কপাট খোলা হয়েছে এবং বিলের পানি প্রবল বেগে নিচে নামতে শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ