পুরাতন রাজশাহী-নাটোর সড়কের বেহাল অবস্থা চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যাতায়াতকারীরা

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৭, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর প্রাণকেন্দ্র বড় মসজিদ থেকে শুরু করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছনের (পুরাতন রাজশাহী-নাটোর সড়ক) রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। গ্রীষ্মকালে চারিদিক ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায় আর বর্ষাকালে কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়ে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় হওয়ায় সবসময়ই ব্যস্ত থাকে এই সড়ক। সংস্কারের অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারীরা। পাশাপাশি ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন সড়কটির কোন সংস্কারই করা হয়নি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে সড়কটি। এছাড়া নগরীর বড় বড় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউন এই সড়কে হওয়ায় বড় যানবাহনগুলোও এই রাস্তায় চলাচল করে। কিন্তু বেহাল দশার কারণে নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে নগরীতে যখন একটু যানজট হয়, তখন এই রাস্তা দিয়ে ছোট যানবাহনগুলো চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। অথচ রাস্তাটি সংস্কার করলে নগরীর যানজটও অনেকখানি নিরসন করা সম্ভব।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় আর পিচ নেই। নিচের ইট-সুড়কি বের হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। রাস্তার এখানে সেখানে ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টির কারণে সেসব গর্তে পানি জমে আছে। কাদায় পরিপূর্ণ। লোকজন খুবই সতর্কতার সাথে চলাচল করছেন যেন দুর্ঘটনা না ঘটে। যানবহান চলাচলের সময় এদিক-ওদিক দুলছে। যেন এই বুঝি উল্টে গেলো। বর্ষাকালে এমন মরণ ফাঁদ হওয়া রাস্তাটি গ্রীষ্মকালে ধুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। তখন ধুলোর কারণে চলাচল করা দায় হয়ে পড়ে।
এই রাস্তার পাশে গত ১২ বছর ধরে ব্যবসা করছেন জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন এখানে ব্যবসা করছি রাস্তা সংষ্কার হতে দেখিনি। শুনেছি ১৫-২০ বছর ধরে রাস্তা সংস্কার হয় না। নগরীর একদম মূল জায়গায় এমন রাস্তা সংস্কার না হওয়া দুঃখজনক। বৃষ্টির সময় পানি আর কাদার কারণে চলাচল করা যায় না। আবার গরমের সময় ধুলো-বালির কারণে চলাচল দায় হয়ে পড়ে।’ অতিদ্রুত তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে এই রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান।
একটু এগিয়ে কুন্ডু বেকারি এন্ড কনফেকশনারির মালিক মিলনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি সম্পূর্ণ অবহেলিত। রাজশাহী নগরীর সব বড় বড় নেতারাই এই রাস্তায় চলাচল করেন। তারা তো সবই দেখেন। তারপরও কেন রাস্তাটি সংস্কার হয় না জানি না। সবাই শুধু সান্ত¦না দেন খুব শিগগিরই সংস্কার হবে। কিন্তু সংস্কার কবে হবে কে জানে। আমার দোকানের পণ্য পরিবহনের জন্যও অনেক সমস্যা পোহাতে হয় এই ভাঙ্গা রাস্তার কারণে।’
আরেকটু এগিয়ে স্থানীয় অধিবাসী এবং পথচারী আবদুল্লাহর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘বর্ষায় বেশি সমস্যা হয়। জুতা স্যান্ডেল প্রায়ই ছিঁড়ে যায়। এখানে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই দেখা যাবে রিক্সা-ভ্যান-অটোরিক্সা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আর মালামাল পড়ে যাবার ঘটনা তো নিত্যনৈমিত্তিক। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অথচ সংস্কার হয় না। সড়কটি সংস্কার করলে নগরীর মূল রাস্তার ওপর চাপ অনেকটা কমবে। এতে যানজটও অনেকখানি কমানো সম্ভব হবে।’
এবিষয়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন দিলদার বলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।
রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর সাহেববাজার এলাকায় এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য রাসিকের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ