পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহারের তথ্য জানাতে বললেন আইজিপি

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০২২, ৮:২৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক :


পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে কেউ ব্যবহার করে থাকলে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছেন নতুন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সবসময় আইন অনুযায়ী চলে। তারপরও কারও বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে, আমাকে সুনির্দিষ্টভাবে জানালে ব্যবস্থা নেবো।’

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন ডাকেন নতুন আইজিপি।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক আইজিপিকে প্রশ্ন করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শোনা যায় পুলিশ বাহিনী রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার কথা। রাজনৈতিকভাবে পুলিশের এমন ব্যবহারে সেই লক্ষ্য অর্জনে বাধা কিনা?’
এর জবাবে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে। নির্বাচনের সময় আমরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে থাকি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি।’

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি আমাদের বিধি আছে, প্রশিক্ষণ আছে। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করি আমাদের প্রতিটি সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এরপরও যদি কারও বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

র‌্যাবের সংস্কার চলমান
নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ‘র‌্যাব একটি লাইভ (সক্রিয়) প্রতিষ্ঠান। এখানে সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। যেকোনও লাইভ প্রতিষ্ঠানেই তা-ই হয়, সবসময় এই সংস্কার চলতে থাকে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘অপরাধীরা অপরাধ করার জন্য যেরকম কৌশল নিয়ে থাকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের চেয়ে আরও বেশি কৌশলী হতে হবে। তাই সংস্কার সব লাইভ প্রতিষ্ঠানেই হয়। ‘

ডিএমপিতে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করছেন একই কর্মকর্তা, তারা ঢাকা শহর ছাড়ছেন না— এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বদলির ক্ষেত্রে কিছু কিছু জিনিস ফলো করি। শুধু পুলিশে না, বিভিন্ন অর্গানাইজেশনে একই লোক অনেক দিন ধরে কাজ করেন। কর্মকর্তার দক্ষতা দেখে যদি মনে করে তাকে রাখা দরকার, তাহলে রেখে দেয়। আর যাকে রাখার দরকার নেই, তাকে বদলি করা হয়।

অবৈধ বিদেশিরা অপরাধ করলে ব্যবস্থা
৯৭ হাজার বিদেশি, যাদের পাসপোর্ট নেই। তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে রয়েছে। তারা জঙ্গিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়েছে। তারা দেশের জন্য হুমকি কিনা- এমন প্রশ্নে আইজিপি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তদের ওপর তথ্য নেওয়া হয়। যেই দেশের নাগরিক সেই দেশ থেকে তথ্য নেওয়া হয়। আর ক্রাইমের সঙ্গে যদি তারা জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

নিখোঁজ ৫০ তরুণদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এটি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ-র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ চলছে।’

দুর্নীতির প্রসঙ্গে আইজিপি
পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে টিআইবির রিপোর্ট প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, পুলিশ বাহিনীকে উন্নত করে গড়ে তুলতে আপনি কী ভূমিকা রাখবেন? এর জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ইতোমধ্যে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিট পুলিশের কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি থানায় জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য ওপেন হাউজ কার্যক্রম চালু রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সব সদস্যকে জবাবদিহির আওতায় আনতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় ঘাটতি আছে, সেগুলো ঠিক করা হবে।’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি প্রশিক্ষণ’
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও দেশের চরাঞ্চলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের জায়গা হয়ে ওঠার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা যখন যেখানে তথ্য পেয়েছি প্রতিটি তথ্যকে বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই জঙ্গি হামলা হচ্ছে না। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন