পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধনে কাজ করছে কমিউিনিটি পুলিশিং

আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশ ও জনগণের মাধ্যমে সেতুবন্ধনে কাজ করছে। তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে বিট পুলিশিং। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরএমপিতে যোগদানের পর নগরীতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং জনগণের মধ্যে সাড়াফেলেছে । এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে জনগণের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নগরীর চারটি থানাকে ৩৬টি এলাকায় বিভক্ত করে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে বিট পুলিশিং।
আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, কমিউনিটি পুলিশিং নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন ওই ওয়ার্ডের একজন গণ্যমান্য বক্তি। তাকে সহযোগিতা করছেন থানা পুলিশ। ওয়ার্ড কমিটি ছাড়াও রয়েছে চারটি থানা কমিটি। এইসব কমিটিকে পরিচালিত করার লক্ষ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় নগর কমিটি। এটা স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে এ পুলিশিঙের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। ছোটখাট সমস্যা হলে মামলা-মোকদ্দমা না করে ওই কমিটির মাধ্যমে সমাধান করা যায় সেই লক্ষ্যে এ কমিটি কাজ করছে। এছাড়া বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছে কমিউনিটি পুলিশিং।

 
নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশির রাজপাড়া থানার সভাপতি আজিজুল আলম বেন্টু বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যে ভীতি ছিল তা দূর করে জনগণের মধ্যে একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। এই ব্যবস্থা কার্যকরের মাধ্যমে সেই আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে।
কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক বলেন, এটা একটি ভালো উদ্যোগ। আইডিয়া সম্পর্কে আমার ভালো ধারণাই ছিল না, এখন ধীরে ধীরে বিষয়টি সম্পর্কে জানছি। এর মাধ্যমে প্রধানত পুলিশের সঙ্গে জনগণের যে দূরত্ব ছিল তা কমিয়ে এনে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। জনগণকে বিচার পেতে সহযোগিতা করা।

 
বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি থানাকে ৯টি ওয়ার্ডে ভাগ হয়েছে বলে জানিয়েছে নগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন একজন সাব ইন্সপেক্টর (এসআই)। তাকে সহযোগিতা করছেন দুইজন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর পদ মর্যাদার পুলিশ। এ বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে ওই এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে তথ্য সংগ্রহ করে তা থানা পুলিশকে জানানো হয়। ইফতে খায়ের আলম বলেন, বিট পুলিশের কাজ তথ্য সংগ্রহ করে থানা পুলিশকে জানানো। কোনো বিচার করা না। বিট পুলিশিঙের দায়িতে নিয়োজিত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর থাকবে ফিক্সড। কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও ওই এলাকার নম্বর একই থাকবে। কোনো পরিবর্তন হবে না।

 
রাজপাড়া থানা পুলিশের কর্মকর্তা ও তেরোখাদিয়া বিলসিমলা এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত এস আই মোস্তাক আহমেদ বলেন, বিট পুলিশিঙের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে জনগণের ব্যাপক সাড়া। ইতোমধ্যে প্রায় ওই এলাকায় প্রায় সাড়ে তেরোশো ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ফোনে সন্দেহভাজন ও আগন্তকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে মানুষজন।