পুলিশ কর্মকর্তার ওপর মাদক ব্যবসায়ীদের মামলা ।। মাদকের ব্যাপারিরা শক্তিশালী হয়ে উঠছে!

আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০১৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ

অবৈধ মাদকের সাথে জড়িতরা কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তারই একটা প্রমাণ দিল শনিবার সন্ধ্যায়। দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মাদক ব্যবসায়ীরা  মতিহার থানার এক এএসআইকে বেধড়ক পিটিয়ে তার কাছে থাকা রিভলবারটি কেড়ে নেয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে রিভলবার কেড়ে নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেয়া হয়েছে। তবে ওই এএসআই মারাত্মক জখম হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশে মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লেকেদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে এখনো বিচ্ছিন্ন হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু বিশ্বে মেক্সিকো সহ এমন অনেক দেশই আছে যে, মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি রাখে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বলা যায় এখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। এক পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৫০ লক্ষাধিক। মাদকের বাজারটা নেহাতই ছোট নয়। তবে বাংলাদেশ যে মাদকের আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা গণমাধ্যমের তথ্য থেকে জানা যায়। আর মাদক এমই একটি অবৈধপন্থা যাা দ্বারা দ্রুত অর্থশালী হওয়ার হাতছানি থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই মাদকের সাথে বিপুল সংখ্যক লোকের সংশ্লিষ্টতা আছে। ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যায় মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের এমনকী রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের আসনে চলে আসছেÑ এটা খুবই ভয়ঙ্কর একটি দিক। এর ব্যাপকতার অর্থই হবে দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হওয়া, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। সেটা যদি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা সমাজ হারিয়ে ফেলে তা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার ব্যাপারটি আর বিচ্ছিন্ন থাকবে না। সে ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার এখনই সময়।
শনিবার যে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর মাদক দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে তাকে ছোট করে বা বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নগরীতে মাদকের ব্যবসার ভিত্তি যে শক্ত তা এই হামলা থেকেই আঁচ করা যায়। মেট্রোপলিটান পুলিশ মাদকের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখালেও মাদকের ব্যাপারিরা কী ভাবে তা হলে শক্তি অর্জন করছে?  সমাজের একজন দুর্বৃত্ত কোনো পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা করবে এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়Ñ বরং এটাই প্রত্যাশা যে, ওই হামলার সাথে যে সব দুর্বৃত্তরা জড়িয়ে আছে তাদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
আবার এমনও অভিযোগ আছে যে, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ মতে ওই পুলিশ সদস্যরা নাকি নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে থাকেন। এই অভিযোগ শনিবার দুর্বৃত্ত হামলায় আহত এএসআই সদস্যের বিরুদ্ধেও করা হচ্ছে। তিনি নাকি ঘটনাস্থলে মাসোয়ারা আদায় করতে গিয়েছিলেন। বাক-বিত-ার এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা করেন। পুলিশ অবশ্য বলেছে যে, ওই কর্মকর্তা সেখানে ওয়ারেন্টভুক্তক আসামীর খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশের আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়টির মধ্যে বেশ দুর্বলতা আছে। ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। অন্তত বিভাগীয় তদন্ত করে ওই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার মূল কারণ উদঘাটন করা দরকার। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য হলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ