পূঁজি সংকটে নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সুফিসান্টু, নাটোর


গত তিন বছর যাবৎ ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা  না পাওয়ায় এবং চামড়ার দাম কম বেঁধে দেয়ায় ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা করছেন নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার কোরবানি ঈদের পর নাটোরের চামড়াপট্টি চকবৈদ্যনাথ এলাকায় তেমন কোন কর্ম চাঞ্চ্যল্য দেখা যায় নি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে চামড়া বেশি দামে কেনা বেচা হচ্ছে। অপরদিকে চামড়া সংরক্ষণের কাঁচামাল লবণের দামও অনেক বেশি। যদি চামড়ার দাম পুনঃনির্ধারণ করা না হয় তাহলে চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়বে। নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম মাধ্যম এই কাঁচা চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাাঁচা চামড়ার বাজার নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় অবস্থিত। এই বাজারে উৎকৃষ্ট মানের কয়েকশ কোটি টাকার কাঁচা চামড়ার আমদানি হয়। নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, লবণের দাম বেশি এবং চামড়ার নির্ধারিত দাম কম। এদিকে কোরবানি ঈদের পর স্থানীয় বাজরে গরুর চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা বর্গফুট হিসেবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কেনা-বেচা করছেন। ফলে আড়ৎদাররা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে ঢাকার হাজারিবাগ থেকে ট্যানারিগুলো হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করতে গিয়ে ট্যানারি মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ট্যনারি স্থাপনের জমিগুলো রেজিস্ট্র্রি না হওয়ায় তারা ব্যাংকের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে না। আর এজন্য তারা পাইকারি ব্যবসায়ীদের বকেয়াও পরিশোধ করছেন না। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি লুৎফর রহমান লাল্টু, সদস্য মঞ্জুল আলম হিরু জানান, গত তিন বছর যাবৎ চামড়ার বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবং ট্যানারি মালিকরা তাদের বকেয়া টাকা না দেয়ায় পুঁজি ভেঙ্গে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় অতি দ্রুত বকেয়া টাকা না পেলে এবং চামড়ার ন্যায্য দাম না পেলে এই চামড়া শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে। পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা জানান, কোরবানির ঈদে নাটোর চামড়া বাজারে উৎকৃষ্ট মানের কয়েকশ কোটি টাকার কাঁচা চামড়ার আমদানি হয়। যদি বকেয়া টাকা দুই এক দিনের মধ্যে না পান তাহলে এবারের চামড়া ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ঈদের দুই মাস আগে বিভিন্ন বাজার থেকে চামড়াগুলো যে দামে কিনেছেন এখন নাটোর পাইকারি বাজারে বেচতে এসে দেখছেন তার দাম অনেক কম। এদিকে কোরবানির পর চামড়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তারা কিনেছেন। এতে করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এভাবেই গত দুই বছর যাবৎ লোকসান দিতে দিতে তাদের পুঁজি হারাতে বসেছেন। যদি সরকার এ ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ না নেন তাহলে চামড়া ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।