পূর্বাভাসের চেয়েও বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা ভয়াবহ

আপডেট: জুন ২৯, ২০২২, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


পূর্বাভাসের চেয়েও বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। যদিও অনিশ্চয়তার বিষয়টি সবাই অপছন্দ করেন। কিন্তু সব সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আরও হতবাক করে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক এবং আর্থিক সেবা কর্পোরেশন সিটিগ্রুপের গ্লোবাল ইকোনমিক-সারপ্রাইজ ইনডেক্সে (সিইএসআই) বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ব্লুমবার্গের পূর্বাভাসমূলক তথ্যও এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব পূর্বাভাস থেকে জানা যায় যে, নভেম্বরের পর থেকে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি আরও খারাপ দিকে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের সূচকগুলো মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই নেতিবাচক হতে শুরু করে। ২০২০ সালের গ্রীষ্মের পর থেকে অর্থনৈতিক সূচকগুলো উল্টোদিকে প্রবাহিত হয়েছে যা হতবাক হওয়ার মতোই। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়া এবং ভোক্তাদের আস্থা কমে যাওয়ায় পূর্বাভাসের চেয়েও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে।

বাজারের মনোভাব পরিমাপ করার জন্য অর্থনৈতিক বিভিন্ন পরিমাপ বেশ কার্যকরী। যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুরু হয় তখন তা সাধারণত বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশ ভালো হয়। অপরদিকে অর্থনৈতিক মন্দার সময় পরিসংখ্যান নিচের দিকে নেমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।

২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ইতিবাচক কর্মসংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি এবং আবাসনের পরিসংখ্যানের জন্য সিইএসআই-এর পূর্বাভাস ইতিবাচক ছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সংস্থাগুলোর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারপর থেকে বিভিন্ন শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের চিত্রই একই রকম।

২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ফেডারেল রিজার্ভের অর্থনীতিবিদ চিয়ারা স্কোটি পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব একটি সূচক তৈরি করেন। জিডিপি, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, খুচরা বিক্রয় এবং উৎপাদন আউটপুটের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়।

এই সূচক ব্যক্তিগত আয়ও পরিমাপ করে। স্কটি দেখেছেন যে, আমেরিকায় ইতিবাচক অর্থনৈতিক চমক ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং এবং ইয়েনের তুলনায় ডলারের মূল্যায়ণের সঙ্গে যুক্ত।

কিন্তু এই সূচক ব্যাখ্যা করা কঠিন হতে পারে। সিইএসআইতে অনগ্রসর এবং অগ্রসরমুখী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এমন বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যেহেতু সূচকটি প্রত্যাশার সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা প্রতিফলিত করে, তাই যদি পূর্বাভাসকারীরা খুব আশাবাদী হয় তবে সম্প্রসারণের সময় এটি নেতিবাচক হতে পারে আবার ইতিবাচকও হতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, জাগোনিউজ