পৃথিবীতে ‘আধুনিক’ মানুষ এসেছিল আরও ৩০ হাজার বছর আগে! নয়া আবিষ্কারে শোরগোল

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


মানব সভ্যতা কত পুরনো? এতদিনের হিসেব অনুযায়ী হোমো স্যাপিয়েন্সদের যে সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শনটি মিলত সেটি ২ লক্ষ বছরের পুরনো। তাই মনে করা হত, আধুনিক মানুষের প্রজাতির বয়স অন্তত লাখ দুয়েক বছর তো হবেই। কিন্তু সম্প্রতি সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন একদল গবেষক। তাঁদের মতে, ২ লক্ষ নয়, ২ লক্ষ ৩০ হাজার বয়স ওই ফসিলের। অর্থাৎ আধুনিক মানুষের প্রজাতির বয়সও ওটাই। একলাফে মানব সভ্যতা তাই হয়ে গেল আরও ৩০ হাজার বছরের পুরনো।

গত শতাব্দীর ছয়ের দশকের একেবারে শেষে আবিষ্কৃত হয় এক ফসিল। ইথিওপিয়ায় প্রাপ্ত সেই ফসিলের নাম দেওয়া হয় Omo I। সেটি কত পুরনো তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা চেষ্টা শুরু করেন প্রথম থেকেই। ওই ফসিলের চারপাশে লাভার ছাইয়ের যে স্তরের আস্তরণের সন্ধান মিলেছিল সেটি কত পুরনো তা জানতে রাসায়নিক ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ ব্যবহার করা হয়। এতদিন ধারণা ছিল ফসিলটি ২ লক্ষ বছরের পুরনো। কিন্তু বিশ্বখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেই গবেষণাপত্রের দাবি, ওই এলাকায় অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল আরও ৩০ হাজার বছর আগে। ওমো আই নামের ওই দেহাবশেষটিও ওই সময়েরই।

গবেষণাপত্রটির অন্যতম লেখক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কেলিন ভিডাল জানাচ্ছেন, ‘‘এর আগের পদ্ধতিগুলি থেকে মনে করা হয়েছিল ওমো ফসিলসের বয়স ২ লক্ষ বছরের মধ্যেই। কিন্তু ওই গণনায় অনেক অনিশ্চয়তা ছিল।’’ তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা নতুন করে গবেষণা শুরু করেন বিষয়টি নিয়ে।

এরপরই সামনে আসে আসল সত্যিটা। তিনি জানাচ্ছেন, ‘‘যখন আমরা নতুন করে করা পরীক্ষার ফলাফলগুলি পেলাম তখন, নিশ্চিত হয়ে গেলাম এই অঞ্চলে যে প্রাচীনতম হোমো স্যাপিয়েন্সের সন্ধান মিলেছে তারা পূর্ব ধারণার থেকেও অনেক পুরনো।’’
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ