পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব রহস্যের সমাধান

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব কিভাবে ঘটেছে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অর্ধশত কোটিরও বেশি আগে এই গ্রহে প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছিল বলে একদল বিজ্ঞানীর মত। যদিও তা মানতে নারাজ অন্য পক্ষ। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী এই রহস্যের সমাধানের দাবি করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ থেকে ৬৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের দেখা মিলেছিল। এএনইউ (Australian National University) গবেষকেরা মহাদেশটিতে পাওয়া বহু প্রাচীন কিছু পাথর পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ৬৫ কোটি বছর আগে থেকেই পৃথিবীতে প্রাণীদের বিকাশ হতে থাকে।
এই বিষয়ে গবেষণাদলের দায়িত্বে থাকা অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোচেন ব্রকস জানান, মহাদেশটির মধ্যাঞ্চলে পাওয়া বহু প্রাচীন কিছু পাথর এই রহস্যের সমাধানে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই পাথরগুলিকে চূর্ণ বিচূর্ণ করেছিলাম এবং এর ভেতর থেকে প্রাচীন প্রাণির আণবিক পদার্থ বের করতে সক্ষম হই।’
জোচেন ব্রকস জানান, সেই অণু থেকে তারা জানতে পারেন ৬৫ কোটি বছর আগে সেগুলো বেশ আকর্ষণীয় ছিল। সেই অণুগুলোর মাধ্যমে শেওলার সৃষ্টি হয়, যা গ্রহটির বাস্ততন্ত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলে।
সেসময় মানুষ কিংবা অন্য কোনো প্রাণির বিকাশ না ঘটলেও পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সবুজের দেখা মেলে। তিনি দাবি করেন, এই সবই ঘটেছে পৃথিবীর বরফ কাল শুরু হওয়ার আগে। মাঝে ৫ কোটি বছর পৃথিবী সম্পূর্ণ বরফে আচ্ছাদিত ছিল।
ফলে সেসব অণুজীব প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সুপ্ত অবস্থায় ছিল। এরপর পৃথিবী উত্তপ্ত হতে থাকায় বরফ গলতে শুরু করে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাউডারের মত ক্ষুদ্র অনুজীব প্রাণ ফিরে পেতে থাকে। যখন পৃথিবী প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন প্রাণ ফিরে পাওয়া অণুজীবেরা বরফ গলা পানির স্রোতে সাগরের দিকে ভেসে যেতে থাকে। ব্রকস বলেন, এসময়টিতে সাগরের পানি পুষ্টিকর অণুজীবে সমৃদ্ধ ছিল। সেসব অণুজীব থেকে উদ্ভিদের বিকাশ ঘটলে উত্তপ্ত পৃথিবীকে আবারও তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। যা প্রাণীর বিকাশের জন্য সহায়ক হয়ে দাঁড়ায়। বলতে গেলে সেই সময় থেকেই উদ্ভিদ ও প্রাণির বিকাশ ঘটে। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এখনও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন গবেষণাদলের সহ-নেতা আম্বার জেরেট। তিনি জানান, আমরা যে আবিস্কার করেছি তা নি:সন্দেহে অসাধারণ। তবে প্রাণের বিকাশ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ