পৃথিবীর চৌম্বক পৃষ্ঠে ফাটল ধরেছে!

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
আমাদের এই পৃথিবী নিরাপদ এবং বাসযোগ্য এমন একটি জায়গা যে আমাদের গ্রহটিকে ঘিরে থাকা সুবিশাল চৌম্বক ক্ষেত্র, যা আমাদেরকে কঠোর সৌরবায়ু এবং মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে রক্ষা করে আসছে তার কোথাও কোনো ফাঁক-ফোকর নেই। বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এমনটিই ভেবে আসছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূচৌম্বকীয় ঝড়কে নিয়ে একটি তদন্ত করে এবং এতে তারা আবিষ্কার করে যে আমাদের প্রতিরক্ষামূলক বাধা হিসেবে চৌম্বক ক্ষেত্রকে আমরা আসলে যতটা নিরাপদ ভেবেছিলাম এটা এটা ঠিক ততটা নিরাপদ নয়। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে ফাটল ধরেছে।
গবেষকরা ২০১৫ সালের ২২ জুন ভারতের উটি-তে স্থাপিত গ্রেপস-৩ মিউয়ন টেলিস্কোপে দেখা তথ্য বিশ্লেষণ করেন যেখানে ছায়াপথসংক্রান্ত মহাজাগতিক রশ্মির একটি বৃহদায়তন বিস্ফোরণ তারা দেখতে পান।
এটি অনেক শক্তিশালী এবং এটি খুব সহজেই একটি মহাকাশযানের দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং পৃথিবীর চৌম্বক ঢালই আমাদেরকে এই রশ্মি থেকে রক্ষা করার প্রথম ধাপ।
২২ জুনের এই ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পূর্বে একটি দৈত্যাকৃতির মেঘ সূর্যের পুষ্পমুকুট (বা বাইরের বায়ুম-ল) থেকে নির্গত হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার গতিবেগ ম্যাগনেটোস্ফিয়ারকে তাড়িত করে।
ওই সময়ে একটি গুরুতর ভূচৌম্বকীয় ঝড় আলোড়ন তৈরি করে যে কারণে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক উচ্চ অক্ষাংশের দেশে রেডিও সংকেত ব্ল্যাকআউট হয়ে যায়। পরিশেষে এখন গবেষকরা মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবটা সম্পূর্ণরুপে উপলব্ধি করতে পারছেন।
ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ এর একটি দল গ্রেপস-৩ থেকে সেদিন প্রাপ্ত তথ্য ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য সিমিউলেশন সম্পাদিত করেন এবং এর ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে সাময়িকভাবে ফাটল ধরেছে।
গবেষকরা ধারণা করছেন যে ভূচৌম্বকীয় ঝড় আসলেই উন্মুক্ত দূর্বল দাগ তৈরি, প্রিজিং বিকিরণ এবং মহাজাগতিক রশ্মির মাধ্যমে আমাদের চৌম্বক ঢালকে ‘পুনরায় কনফিগার’ করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
সুতরাং ভালো খবর হলো এই যে, আমাদের ম্যাগনেটোস্ফিয়াতে শুধুমাত্র সাময়িকভাবে ফাটল ধরেছে। তবে দুঃশ্চিন্তার বিষয় হলো এটা এখন প্রমাণতি যে এতে ফাটল ধরতে পারা এখন আর অসম্ভব নয়। রাইজিংবিডি