পৃথিবীর নিকটতম ২০ ছায়াপথ

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ছায়াপথ মহাকর্ষীয় শক্তি দ্বারা আবদ্ধ একটি অতি বৃহৎ সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা যা তারা, আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস ও ধূলিকণা, প্লাসমা এবং প্রচুর পরিমাণে অদৃশ্য বস্তু দ্বারা গঠিত। একটি আদর্শ ছায়াপথে ১০ মিলিয়ন থেকে এক ট্রিলিয়ন পর্যন্ত নক্ষত্র থাকে যারা সবাই একটি সাধারণ মহাকর্ষীয় কেন্দ্রের চারদিকে ঘূর্ণায়মান।
বিচ্ছিন্ন নক্ষত্র ছাড়াও ছায়াপথে বহুনক্ষত্র ব্যবস্থা, নক্ষত্র স্তবক এবং বিভিন্ন ধরনের নীহারিকা থাকে। অধিকাংশ ছায়াপথের ব্যস কয়েকশ আলোকবর্ষ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ পর্যন্ত এবং ছায়াপথসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব মিলিয়ন আলোকবর্ষের পর্যায়ে। প্রতিটা ছায়াপথকে ধরা হয় এক একটি নক্ষত্রমেলা হিসেবে। যেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নক্ষত্রগুলোকে ধারণ করে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি করেছে। আর এরকম সুবিন্যস্ততা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে।
হাজার হাজার ছায়াপথের সন্ধান মিললেও বিজ্ঞানীরা কেবলমাত্র অল্প কিছু ছায়াপথের ভালো বিবরণ দিতে সক্ষম হয়েছেন। ছায়াপথগুলো সর্পিল, ডিম্বাকৃতির এবং অনিয়মিত সহ নানা আকৃতিতে দেখা যায়। আমাদের পৃথিবীর মিল্কি ওয়ে বা আকাশগঙ্গা নামক নিজস্ব ছায়াপথ রয়েছে।
এ প্রতিবেদনে পৃথিবীর নিকটতম ২০টি ছায়াপথ তুলে ধরা হল।
মিল্কি ওয়ে (পৃথিবীর নিজস্ব ছায়াপথ) : মিল্কি ওয়ে’কে মনে করা হয় রাতের আকাশে এক উজ্জ্বল আলোকপুঞ্জ হিসেবে। যেটা মধ্যযুগের অনেক দার্শনিক ও জোর্তিবিদদের বিভ্রান্তে ফেলে দিয়েছিল। তার ভেতর ডেমোক্রটাস, অ্যারিস্টটল ও মোহানী মোহাম্মদের কথা উল্লেখযোগ্য যারা মিল্কিওয়ে নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ করেন। ১৬২০ সালের দিকে গ্যালিলিও গ্যালিলি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই ছায়াপথটি আবিষ্কার করেন। মিল্কিওয়ে অসংখ্য নক্ষত্রের সমন্বয়ে গঠিত। তারপর থেকেই মিল্কিওয়ে নিয়ে বিশ্লেষণ বিজ্ঞানীদের চর্চার বিষয় হয়ে দাড়ায়। এই ছায়াপথটি স্পাইরাল তথা সর্পিলাকৃতির এবং ধারণা করা হয় এতে প্রায় ১০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে। অধিকাংশ নক্ষত্রগুলো রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, একটা কৃষ্ণগহবরকে কেন্দ্র করে মিল্কিওয়ের নক্ষত্রগুলো আবর্তিত হচ্ছে।
স্যাজিটারিয়াস ড্রফ স্ফিরোইডাল গ্যালাক্সি : এই ছায়াপথটিকে মিল্কওয়ের উপ-ছায়াপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ০.০৮১ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। ১৯৯৪ সালে গেরি গিলমোর এবং মাইক এরইন এই ছায়াপথটি আবিষ্কার করেন। এটা মিল্কিওয়ের সবচেয়ে কাছের ছায়াপথ। এটার আকৃতি উপবৃত্তাকার এবং এটা মিল্কিওয়ের গ্যালাকটিক পল কক্ষপথে আবর্তন করে। এর নক্ষত্রগুলো হলুদাভ এবং গুচ্ছাকৃতির। এর উল্লেখযোগ্য চারটি নক্ষত্রগুচ্ছ হলো টারজান-৭, টারজান-৮, এম৫৪ এবং এআরপি-২।
আরসা মেজর ২ ড্রফ : এই ছায়াপথটি মিল্কিওয়ের কাছাকাছি অন্যতম ছোট ছায়াপথ। ‘স্লোয়ান ডিজিটাল স্কাই সার্ভে’ নামক এক মহাকাশ গবেষণায় ২০০৬ সালে এই ছায়াপথটির খোঁজ মেলে। ধারণা করা হয় এটি উপগোলকীয় আকৃতির এবং পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ০.০৯৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। এটি একটি ক্ষীন আলোর ছায়াপথ অর্থাৎ এর ঔজ্জল্যমান তুলনামুলক কম। ধারণা করা হয় এর নক্ষত্রগুলো মিল্কিওয়ের নক্ষত্রগুলো অপেক্ষা ১০ বিলিয়ন বছর আগেরকার এবং যেগুলো মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় শুরুর দিকের।
লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড (এলএমসি) : এই ছায়াপথটি অনিয়মিত আকৃতির এবং মিল্কিওয়ের কাছের অন্যতম একটি ছায়াপথ। এটা মধ্যযুগীয় জোর্তিবিদদের নজরে ছিল। সর্বপ্রথম ফার্দিনান্দ ম্যগেলার ১৫১৯ সালে এই ছায়াপথটি পর্যবেক্ষণ এবং এর তথ্য নথিভুক্ত করেন। এটা পৃথিবী থেকে প্রায় ০.১৬৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। এটা খালি চোখে দেখা যায়। ছায়াপথটিতে প্রচুর পরিমানে গ্যস, ধুলিকনা ও এর সংমিশ্রণে কয়েকটি সক্রিয় নক্ষত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য। এই ছায়াপথে প্রায় ৭০০ নক্ষত্রগুচ্ছ, ৬০ এর অধিক গোল ও পুঞ্জাকৃতির নক্ষত্রগুচ্ছ এবং ৪০০ এর বেশি বিক্ষিপ্ত নীহারিকা রয়েছে। এছাড়া ছায়াপথটিতে কিছু দানবাকৃতির নক্ষত্রও দেখা যায়।
ছায়াপথের গতিবিধি : গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, ছায়াপথগুলো একটি অপরটি থেকে এমনভাবে দূরে সরে যাচ্ছে যেন মনে হয় এদের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ রয়েছে। উদাহরণস্বরুপ অ্যানড্রোমেডা ছায়াপথটি মিল্কিওয়ের কাছের ছায়াপথ হিসেবে ছিল কোন এক সময়ে। কিন্তু এখন তার ব্যবধান আগের চেয়ে বেশি। ছায়াপথগুলোর এরকম দূরে সরে যাওয়ার ফলে মহাবিশ্বের বিস্তৃতিও বাড়ছে। কমে যাচ্ছে অভিকর্ষীয় বলের প্রভাব।
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ২০ ছায়াপথ :
১. মিল্কি ওয়ে (পৃথিবীর নিজস্ব ছায়াপথ) : দূরত্ব ০.০২৭ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
২. স্যাজিটারিয়াস ড্রফ স্ফিরোইডাল গ্যালাক্সি : দূরত্ব ০.০৮১ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৩. আরসা মেজর ২ ড্রফ : দূরত্ব ০.০৯৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৪. লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড (এলএমসি) : দূরত্ব ০.১৬৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৫. বুটেস ১ : দূরত্ব ০.১৯৭ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৬. স্মল ম্যাজেলানিক ক্লাউড (এসএমসি, এনজিসি ২৯২) : দূরত্ব ০.২০৬ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৭. আরসা মাইনর ড্রফ : দূরত্ব ০.২০৬ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৮. ড্রাকো ড্রফ (ডিডিও ২০৮) : দূরত্ব ০.২৫৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
৯. এনজিসি ২৪১৯ : দূরত্ব ০.২৭৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১০. সেক্সটেনস ড্রফ এসপিএস : দূরত্ব ০.২৮১ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১১. স্কাল্পচার ড্রফ (ই৩৫১-জি৩০) : দূরত্ব ০.২৮৭ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১২. আরসা মেজর ১ ড্রফ (ইউএমএ ১ ডিএসপিএস) : দূরত্ব ০.৩৩০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১৩.  কারিনা ড্রফ (ই২০৬-জি২২০) : দূরত্ব ০.৩৩০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১৪. ফরনেক্স ড্রফ (ই৩৫৬-জি০৪) : দূরত্ব ০.৪৬০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১৫. লিও ২ ড্রফ (লিও বি, ডিডিও ৯৩) : দূরত্ব ০.৭০১ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১৬. লিও ১ ড্রফ (ডিডিও ৭৪, ইউজিসি ৫৪৭০) : দূরত্ব ০.৮২০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ ।
১৭. লিও টি ড্রফ : দূরত্ব ১.৩৭০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ ।
১৮. ফোনিক্স ড্রফ গ্যালাক্সি (পি ৬৮৩০) : দূরত্ব ১.৪৪০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১৯. বারনার্ড’স গ্যালাক্সি (এনজিসি ৬৮২২) : দূরত্ব ১.৬৩০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।
২০. এমজিসি১ : দূরত্ব ২.০০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।