পৃথিবীর বাইরে অবশ্যই রয়েছে বুদ্ধিমান প্রাণী! হকিং-ঘনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর দাবিতে চাঞ্চল্য

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ৫:২৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


এই ব্রহ্মাণ্ডে কি কেবল পৃথিবীতেই রয়েছে প্রাণের চিহ্ন? মানুষই জগতের একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী? এমন অহং একেবারেই অর্থহীন। পৃথিবী ছাড়াও বহু গ্রহেই রয়েছে বুদ্ধিমান সভ্যতা। সাবধান করে দিচ্ছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাভি লোব। ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে নানা দাবি গত কয়েক দশক ধরে বারবার শোনা গিয়েছে। ভিনগ্রহীদের যানের পৃথিবীর উপর দিয়ে চক্কর মারার দাবি থেকে শুরু করে আরও নানা কথা শোনা গিয়েছে। তবে সেই সব দাবির সঙ্গে অ্যাভি লোবের দাবিকে মিশিয়ে ফেলা যাবে না। কেননা ইনি হার্ভার্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে সব থেকে বেশিদিন পদে থাকার রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। স্টিফেন হকিংয়ের মতো বহু কিংবদন্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এমন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র এক অধ্যাপকের দাবি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিক কী বলেছেন প্রবীণ জ্যোতির্বিজ্ঞানী? তাঁর নতুন বইয়ে অ্যাভির স্পষ্ট দাবি, ”আমরা বিশেষ কেউ নই। বহির্বিশ্বে এমন অসংখ্য সভ্যতা রয়েছে। আমাদের কেবল তাদের খুঁজে বের করতে হবে।” সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই ‘দ্য ফার্স্ট সাইন অফ ইন্টেলিজেন্ট লাইফ বিয়ন্ড আর্থ’। তাতেই ৫৮ বছরের বিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করেছেন নিজের মতকে।
কিন্তু কী করে তিনি এত নিশ্চিত হচ্ছেন? আসলে ২০১৭ সালের অক্টোবরে আমাদের সৌরজগতে ঢুকে পড়েছিল এক মহাজাগতিক বস্তু। যার নাম ‘ওউমুয়ামুয়া’। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেটি পার হয়ে গিয়েছিল তার পথ। অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত তার গতিবিধির দিকে নজর রেখেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এটি গ্রহাণু। কিন্তু যে নানা আকারের গ্রহাণুকে নিয়মিতই পৃথিবীর আশপাশ দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়, তাদের থেকে অনেক আলাদা এটি। বিজ্ঞানীরা চমকে উঠে দেখেছিলেন, সূর্যের থেকে দূরে যাওয়ার পরে আচমকাই গতি বাড়িয়েছিল ‘ওউমুয়ামুয়া’। যেন তাকে দূর থেকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করছিল।
কেবল গতি বাড়াই নয়, অধ্যাপক অ্যাভির মতে ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছিল ওই রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুকে। তাঁর মতে, এটি একটি কৃত্রিম বস্তু। সাধারণ গ্রহাণুর থেকে এর চরিত্র একেবারেই আলাদা। আর এর থেকেই সৌরজগতের বাইরে বুদ্ধিমান সভ্যতার আন্দাজ পেতে চেষ্টা করেছেন তিনি। এমন দাবি অবশ্য তিনি আগেও করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও তিনি এমন দাবি করেছিলেন। এবার নতুন বইতেও ফের সেই দাবিতেই সরব হলেন প্রবীণ বিজ্ঞানী।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ