বাগমারায় পেঁয়াজ চাষে লাভবান কৃষক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪, ১০:১৫ অপরাহ্ণ


বাগমারা প্রতিনিধি :রাজশাহীর বাগমারায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বাজারদর ভাল থাকায় লাভের মুখ দেখছে উপজেলার পেঁয়াজ চাষীরা। উপজেলার হাট বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ক্রমেই বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এলাকার কৃষকের ঘরে ঘরে যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। চাষীরা বেশি দামের আশায় অল্প অল্প করে বাজারে ছাড়ছে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের মতে, সেচের পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত কমবে না দাম। এতে চাষীরা লাভের মুখ দেখছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, এখনই পেঁয়াজের দাম এতো বেড়ে গেলে আর কিছুদিন পর রমজান মাসে পেঁয়াজের বাজার দর এখনকার চেয়ে অধিক ছাড়িয়ে যাবার শঙ্কাও রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার একশো হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রীস্ম-কালিন পেঁয়াজ চাষ হয়েছে ৭০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দেশি জাতের পেঁয়াজ প্রতি মণ ৩৫’শ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা। স্থানীয় ভোক্তারা বলছেন, এখনই পেঁয়াজের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে রমজান মাস ঘিরে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।

ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান, রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার শিকদারী, আলোকনগর হাট থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার, যাত্রাবাড়ী, রায়ের বাজার, গাবতলীসহ বিভিন্ন আড়ত, নারায়নগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, সৈয়দপুর, ফুলবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষী লুৎফর রহমান জানান, সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় গড়ে ৭০ মণ করে ফলন হয়। তাতে ৫২৫ মণ পেঁয়াজ হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। অবশিষ্ট পেঁয়াজ দাম আরো বাড়লে বিক্রি করবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেন।

হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান ও রেজাউল ইসলাম জানান, পেঁয়াজের উৎপাদন ভাল হয়েছে। তবে এলাকার অবস্থা সম্পন্ন চাষীরা ঘরে পেঁয়াজ মজুত করছে। রমজান মাসে তা বাজারজাত করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ উপজেলায় চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এখনও মাঠ থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন চলমান রয়েছে। এ পেঁয়াজ চাষীরা আস্তে আস্তে বাজারে ছাড়ছে। তবে বাজার দরে কৃষকরা খুশি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল হোসেন জানান, রমজান মাসে টিসিবি’র পন্য বিপননসহ নিত্যপন্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। অবৈধভাবে কোন দ্রব্য অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করা হলে সেটা তদারকি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।