পেন্সিল রহস্য

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২০, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

জুনায়েদ ইসলাম ফাহিম


নিরা কেবল মাত্র ঘুম থেকে উঠলো,
নিরা দবির সাহেবের একমাত্র মেয়ে। দবিড় সাহেব ভদ্রলোক, কিন্তু পিশাচ প্রজাতির। এক জীবনে সুদ-ঘুষ খেয়েছেন প্রচুর। তার অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ করাটা ছিলো আশ্চর্যের ব্যাপার। যদিও বয়সের ভারে এথন তিনি কিছুটা ভালো হয়েছেন। তবুও মানুষ তাকে পিশাচ বলে ডাকতে ভোলেনি আগের স্বভাবের কারণে। নিরা দবিড় সাহেব একমাত্র মেয়ে, একমাত্র বলে তিনি আদরের কমতি রাখেননি কখনো। আদর পেলে মানুষ খুব উৎশৃঙ্খল হয়ে উঠে, নিরাার ক্ষেত্রে তা উল্টো হয়েছে। নিরা দবিড় সাহেবের কিছুই পায়নি বরং হয়েছে হাবাগোবা। শারীরিক ভাবে হাবাগোবা মানুষ প্রচুর শক্তিশালী না হলেও মানসিক ক্ষেত্রে তারা চালাকচতুর হয়। হাবাগোবা নিরা বই পড়তে ভালোবাসে, বিশেষ করে রহস্যের বই তার কালেকশনে প্রচুর। তার কালেকশনে সব বই রহস্যের, রহস্যের বই পড়া নিরার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রহস্যের বই পড়া তার পরিবার ভালো চোখে দেখেনি। তারদের মতে মেয়েটা মানসিক রোগী। নিরা তা মাথায় নেয়নি, যে যাই বলুক নিরার তাতে কিছুই যায় আসেনা। নিরার জীবনের একজন বন্ধু আছে, সে একমাত্র বন্ধু নিরার, নিরা নাম রেখেছে পেন্সিল পরী। সে সপ্তাহে একদিন নিরার সাথে কথা বলে। কিন্তু নিরার ইচ্ছে সে প্রতিদিন একবার আসুক, নিরা পরীর কাছে অদ্ভুত সব প্রশ্ন করে।

নিরা: পরী তুমি হার্টের অপারেশন করতে পার?
পরী: না এটা আমার কাজের মধ্যে নয় নিরা।
নিরা: কেন কাজের মধ্যে নয় কেন? তাহলে কি পারো পরী?

পরী: আমি তোমার সাথে গল্প করতে পারি, ছবি আঁকতে পারি।

নিরা: তাহলে হার্ট অপারেশন পারো না?

পরী: সত্যি নিরা, পারিনা।

নিরা: পরী তুমি আগামী সপ্তাহে আসবে না।
পরী: কেন?

নিরা: শুনবে পরী?

পরী: হ্যাঁ নিরা।

নিরা: আগামীকাল আমার হার্ট অপারেশন ডাক্তার বলেছে বাঁচার সম্ভাবনা একেবারেই কম। তাই তুমি আর আসবে না।

পরী: নরম গলায় নিরা তুমি ভালো হয়ে যাবে।
নিরা আর ভালো হয়নি।
পেন্সিল পরী মাঝেমধ্যে আসে নিড়ার আঁকা পেন্সিল পরীর ছবি পৃষ্ঠা উল্টে দেখে, নিড়া আর আঁকেনি পেন্সিল পরীর ছবি।