পেয়ারা চাষে পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশ রক্ষার কী হবে!

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

পলিথিন ও পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে এর ব্যবহার থেমে নেই। বরং বিশেষ ক্ষেত্রে পলিথিনের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেয়ারা চাষে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার আশংকাজনক। এই ব্যবহার খুবই দৃশ্যমান কিন্তু বন্ধে কোনেই নজরদারি নেই। ফলে এর ব্যাপকতাও বাড়ছে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। যদিও এই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে- পোকার আক্রমণ রুখতে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে। সুফল পেতে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার প্রকৃতপক্ষে কতটুকু লাভবান হওয়া যাচ্ছে তা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে ৫ হাজার ৭৭১ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১৯ দশমিক ৯৩ টন হারে পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৩ টন। প্রতি হেক্টরে এক লাখ হারে এ মৌসুমেই পেয়ারার পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার হয়েছে ৫৭৭ কোটির উপরে। এ বছর রাজশাহী জেলায় ৪ হাজার ২০ হেক্টর পেয়ারায় চাষ হয়েছে। তাতে ব্যবহার হয়েছে ৪০২ কোটি পলিথিন ব্যাগ। এছাড়া নওগাঁয় ২৯০ হেক্টরে ২৯ কোটি, নাটোরে ৩৮৫ হেক্টরে সাড়ে ৩৮ কোটি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৭৬ হেক্টরে ১০৭ কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। ভয়াবহ চিত্রই বটে।
তবে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা বলছেন, ‘প্রায় পাঁচ-সাত বছর ধরে পেয়ারায় পলিথিন ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করছেন চাষি। এতে ভালো ফল পাচ্ছেন তারা। এ ব্যাগ ব্যবহারে কমে গেছে রাসায়নিকের ব্যবহার। তিনি দাবি করেন, পলিথিন এ ব্যাগে পরিবেশের যে ক্ষতি তা রাসায়নিকের ক্ষতির চেয়ে অনেক কম।’ কিন্তু প্রশ্নটি এখানে নয়Ñ বর্তমান সময়ে যে সুবিধা বলে মনে হচ্ছে সেটা আগামীতে ভয়ঙ্কররূপে জাতির জন্য সঙ্কট বহে আনতে পারে। আর তা ছাড়া বিষয়টি অনৈতিক তো বটেই- আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনও। যা আইন এবং নৈতিকতার সাথে মিলে না তা থেকে লাভবান হওয়ার চিন্তাটাই অসুস্থতা, ক্ষতিকারক।
সম্প্রতি দেশের উচ্চ আদালত দেশের হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও উপকূলীয় অঞ্চলে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ানটাইম) প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার এক বছরের মধ্যে নিষিদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
সেই সঙ্গে পলিথিন ও পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকরের জন্য সরকারকে বাজার তদারকি, পলিথিন উৎপাদনকারী যন্ত্রপাতি জব্দ ও কারখানা বন্ধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে করণীয়টাই ঠিক করা এই মুহূর্তে জরুরি। টেকসই উন্নয়নের কথা বলবো আবার প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিনের ব্যবহার উৎসাহিত করবোÑ সেটা স্ববিরোধী হয়ে যায়। আর পরিবেশ প্রতিবেশের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব কি? এর সাথে জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারটিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন- মাটি, পানি, বায়ু প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন দ্বারা দূষিত হচ্ছে। অর্থাৎ প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন কোনোভাবেই পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য উপকারী নয়। এ সত্য এখন সারা বিশ্বকে ভাবতে হচ্ছে- আমাদেরকেও ভাবতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ