পোরশায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছীরা

আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২২, ১:৪৬ অপরাহ্ণ


ডিএম রাশেদ পোরশা (নওগাঁ) :


নওগাঁর পোরশায় পুরোদমে চলছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কার্যক্রম। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হচ্ছে খেজুর গাছকে ঘিরে। শীত চলছে।

অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীতে। খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ যেন একেবারেই আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে এর পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা।

এখন এ এলাকার বাড়ি বাড়ি খেজুর রস দিয়ে তৈরির ধুম পড়েছে গুড়, লালি, রস আগুনের জ্বাল দিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি, মোলাসহ নানান ধরনের মজার মজার খাবার। খেজুরের রসে মুড়ি ও বিভিন্ন পিঠা ভিজিয়ে খাবার মজাই আলাদা।

খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় গুড়, পাটালি, লালি, চিনিসহ অনেক কিছু। এছাড়াও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে পাটি তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে এ গাছের পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। তাছাড়া স্বুসাধু ফল খেজুরতো আছেই।

খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোনো যত্ন ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিস্কার করে রস সংগ্রহ করতে হয়।

জানা যায়, নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশা উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছগুলি বিশেষভাবে রোপন করা হয়নি।

গাছ প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মে থাকে। বর্তমান সময়েও এ উপজেলায় খেজুর গাছ প্রাকৃতিক ভাবে জন্মিতে দেখা যাচ্ছে। এ গাছ পতিত জমিতেই বেশি হতে দেখা যায়।

উপজেলার সহড়ন্দ গ্রামের খেজুর গাছের রস সংগ্রহকারী শরিফউদ্দিন ও জাইদুর রহমান জানান, একজন চাষী প্রতিদিন ২০-৩০টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারে।

আর পরিকল্পিত ভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় লালীসহ বিভিন্ন ধরনের চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, খেজুর গাছের রস অনেক সুস্বাধু। তাল গাছ থেকেও রস সংগ্রহ করা হয়।

তবে তাল গাছের রসের থেকেও অনেক বেশি সুস্বাধু খেজুরের রস। বাজারে অনান্য গুড় বা লালীর দাম কম হলেও খেজুরের গুড় ও লালীর দাম অনেক বেশি। তাই এ এলাকার চাষীরা লাভবান হবেন বলেও তিনি মনে করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ